দিল্লির রণক্ষেত্রে নিট আন্দোলন! পুলিশি লাঠিপেটায় রক্তপাত দেখে আর চুপ থাকতে পারলেন না গায়ক অরিজিৎ সিং!

দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্ক এবং শিক্ষাব্যবস্থায় জেঁকে বসা দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আগুন এখন গোটা দেশকে কাঁপিয়ে তুলছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ডাকে আয়োজিত ঐতিহাসিক ‘সংসদ চলো’ অভিযানকে কেন্দ্র করে সোমবার উত্তাল হয়ে ওঠে জাতীয় রাজধানী। বিক্ষোভকারীদের রাজপথের আন্দোলন দমাতে দিল্লি পুলিশ বেপরোয়া লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করে। এই পুলিশি হানায় বহু আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রী গুরুতর আহত হন। রক্তে ভেজে রাজধানীর রাজপথ। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি সোচ্চার হয়েছেন দেশের একাধিক শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব। বলিউড পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ, অভিনেতা রীতেশ দেশমুখ ও প্রবীণা অভিনেত্রী শাবানা আজমির পর এবার সরাসরি প্রতিবাদে মুখ খুললেন দেশের কোটি কোটি যুবকের হৃদস্পন্দন, জনপ্রিয় গায়ক অরিজিৎ সিং।

সাধারণত দেশের রাজনৈতিক বা সংবেদনশীল সমসাময়িক বিষয়ে প্রকাশ্যে মতামত বা মন্তব্য করতে সচরাচর দেখা যায় না অরিজিৎ সিংকে। তবে গত বছর আরজি কর-কাণ্ডের মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে তাঁর একটি ব্যক্তিগত বা গোপন সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মাঝেমধ্যেই দেশের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অবিচারের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদী পোস্ট করতে দেখা যায়। দিল্লির এই ভয়াবহ ঘটনার পরও ঠিক ওই একই অ্যাকাউন্ট থেকেই নিজের তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা উগরে দিয়েছেন এই সুরের জাদুকর।

সামাজিক মাধ্যমে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে অরিজিৎ সিং অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, “এ বার তো প্রকাশ্য রাজপথে ছাত্রছাত্রীদেরও বেধড়ক মারধর করা হচ্ছে। দিল্লি পুলিশের কাছে আমার সোজা ও স্পষ্ট প্রশ্ন, আপনাদের কি কাজ করতে গিয়ে একবারও লজ্জা করছে না? আর দেশের তথাকথিত নেতা-মন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে বলছি, এ সব দেশে ঠিক কী চলছে? আপনারা কি নিজেদের দেশের ভাগ্যবিধাতা বা স্বয়ং ঈশ্বর বলে ভাবতে শুরু করে দিয়েছেন? ভুলে যাবেন না, এই পৃথিবীতে সবকিছুরই শেষ আছে এবং একমাত্র স্থায়ী সত্য হলো চরম পরিবর্তন। হর হর মহাদেব।”

অরিজিতের এই বিস্ফোরক বার্তা মুহূর্তের মধ্যে ইন্টারনেটের পাতা চিরে লাখ লাখ মানুষের ফোনে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর এই সাহসী অবস্থানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন নেটিজেনদের একটা বড় অংশ। অনেকেই বলছেন, দেশের এই দুর্দিনে শিল্পীদের আরও বেশি করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত। এদিকে সোমবারের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর মঙ্গলবারও রাজধানীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম থমথমে। পুলিশি কড়াকড়ি, টিয়ার গ্যাসের ঝাঁঝ কিংবা গ্রেপ্তারের ভয়—কোনো কিছুই দমাতে পারেনি আন্দোলনকারী ও ছাত্র-ছাত্রীদের। সিজেপি প্রতিনিধিরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং নিট কেলেঙ্কারিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি না মানা হলে এই আন্দোলন আগামী দিনে আরও তীব্র থেকে তীব্রতর রূপ নেবে।