‘অনশন জারি থাকবে!’ লাদাখের অধিকারের লড়াইয়ে অনড় সোনম ওয়াংচুক

লাদাখের পরিবেশ রক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের আঞ্চলিক অধিকারের দাবিতে দীর্ঘদিনের আন্দোলনে যুক্ত বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। দিল্লিতে চলমান তাঁর অনশন কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে। সোনম স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন ভাঙবেন না।
সোনমের প্রধান দাবিগুলো কী?
সোনম ওয়াংচুক ও তাঁর সমর্থকরা মূলত দুটি বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছেন:
সরাসরি আলোচনা: লাদাখের যুব প্রতিনিধিদের সংসদ ভবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হোক, যাতে তাঁরা সরাসরি সাংসদদের সঙ্গে লাদাখের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে পারেন।
বিকল্প ব্যবস্থা: যদি সংসদ ভবনে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়া যায়, তবে তাঁকে হাসপাতালে থাকা অবস্থাতেই সাংসদদের সঙ্গে দেখা করার সুবন্দোবস্ত করা হোক।
শারীরিক অবস্থার অবনতি ও উদ্বেগ
দীর্ঘদিন ধরে অনশন চালিয়ে যাওয়ায় সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তাঁর এই অনড় অবস্থানে সমর্থকদের মধ্যে যেমন উদ্দীপনা রয়েছে, তেমনই বিভিন্ন মহল তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
কেন এই আন্দোলন?
সোনমের এই লড়াই শুধু লাদাখের মানুষের অধিকারের জন্য নয়, বরং হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষা এবং জলসংকটের মতো বড় ইস্যুগুলোর বিরুদ্ধেও। তাঁর অন্যতম বড় দাবি হলো লাদাখকে ‘ষষ্ঠ তফসিল’ (Sixth Schedule)-এর অন্তর্ভুক্ত করা।
সরকারি প্রোটোকল ও অচলাবস্থা
সংসদ ভবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি নিরাপত্তা ও প্রোটোকলের দোহাই দিয়ে এখনও ঝুলিয়ে রেখেছে দিল্লি পুলিশ ও প্রশাসন। অনেক রাজনৈতিক নেতা সোনমের দাবির প্রতি সমর্থন জানালেও, সরকারি স্তরে এখনও কোনো ইতিবাচক সমাধান মেলেনি।
সোনম ওয়াংচুকের এই আন্দোলন ভারতের পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। লাদাখের যুবসমাজ তাঁর পাশে যেভাবে সংহতি জানিয়েছে, তাতে এই আন্দোলন যে আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।