আগরতলা পুলিশ সদর দপ্তরে চাঞ্চল্য! সিবিআইয়ের সাবেক তদন্তকারী তথা ত্রিপুরার পুলিশ প্রধানের আকস্মিক প্রয়াণ!

ত্রিপুরার পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিপি) অনুরাগ ধনখরের আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে গোটা দেশে এবং প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগরতলা পুলিশ সদর দপ্তরে (পিএইচকিউ) নিজ কার্যালয়ের ভেতরেই অভিজ্ঞ এই আইপিএস অফিসারকে অচৈতন্য ও মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই মুহূর্তের মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ছুটে আসেন এবং গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে জরুরি তদন্ত শুরু করেন। ময়নাতদন্তের সম্পূর্ণ প্রতিবেদন হাতে আসার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গুরুতর অবস্থায় ডিজিপি অনুরাগকে তৎক্ষণাৎ নিকটবর্তী গোবিন্দ বল্লভ পান্ত (জিবিপি) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসক প্রদীপ ভৌমিক সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, দুপুর ১২টার দিকে তাঁকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখনই তাঁর শরীরে প্রাণের কোনো লক্ষণ ছিল না। তা সত্ত্বেও হাসপাতালের জরুরি বিভাগের বিশেষ চিকিৎসকদের দল প্রায় ৪৮ মিনিট ধরে একটানা সিপিআর (CPR) দিয়ে তাঁকে বাঁচিয়ে তোলার নিরন্তর চেষ্টা চালান। কিন্তু সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে দুপুর ১২টা বেজে ৪৮ মিনিটে তাঁকে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর তাঁর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, শরীরে কোনো বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না বা মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে।

উল্লেখ্য, প্রয়াত অনুরাগ ধনখর ত্রিপুরা ক্যাডারের অত্যন্ত অভিজ্ঞ এবং মেধাবী একজন আইপিএস কর্মকর্তা ছিলেন। দীর্ঘ ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে এই রাজ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন। ২০২৫ সালের মে মাসে তাঁকে ত্রিপুরার ডিজিপি পদে নিযুক্ত করা হয়েছিল। এর আগে তিনি রাজ্যের ডিজিপি (ইন্টেলিজেন্স) পদের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সফলভাবে সামলেছিলেন। এমনকি চাঞ্চল্যকর নীরব মোদী জালিয়াতি মামলার সিবিআই তদন্তের নেতৃত্ব দেওয়ার পেছনেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কর্মজীবনে তিনি সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (CISF) এবং জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনসহ একাধিক মর্যাদাপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অসামান্য অবদানের জন্য মর্যাদাপূর্ণ পুলিশ পদকসহ অজস্র সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

একজন দক্ষ ও সৎ পুলিশ কর্মকর্তার এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক প্রয়াণ গোটা পুলিশ বাহিনীকে নতুন করে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার গুরুদায়িত্ব সামলাতে গিয়ে পুলিশ কর্মীদের যে প্রতিনিয়ত তীব্র মানসিক চাপ ও পেশাগত উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হয়, তা আবারও প্রকাশ্যে চলে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের প্রতিটি স্তরের সুরক্ষা কর্মীদের জন্য নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও পেশাদার কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। এই মর্মান্তিক ঘটনা পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে আমলা মহলে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।