আইনি জালে বাংলার ক্রিকেটার অভিষেক পোড়েল! শারীরিক সম্পর্ক ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগে কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগে আইনি সংকটে বাংলার ক্রিকেটার অভিষেক পোড়েল (Abishek Porel)। কলকাতা হাইকোর্ট এই মামলায় তদন্তকারী পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চের এই নির্দেশ অভিষেক পোড়েলের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
মামলার প্রেক্ষাপট: ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের জুন মাসে। হুগলির মগরা থানায় এক ডাক্তারি পড়ুয়া তরুণী অভিযোগ দায়ের করেন যে, অভিষেক পোড়েল তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস করেছেন। তরুণীর আরও অভিযোগ, অভিযুক্ত ক্রিকেটার তাঁর কিছু আপত্তিকর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেল করছেন এবং বলপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করতে বাধ্য করছেন।
হাইকোর্টের নির্দেশে কী থাকছে? সোমবার এই মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য পুলিশকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে:
১৯টি গুরুতর ধারায় অভিষেক পোড়েলের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। যার মধ্যে বেশ কিছু ধারা জামিন অযোগ্য।
অভিযুক্তের কাছে থাকা ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলি (মোবাইল, ল্যাপটপ ইত্যাদি) অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত করে ফরেনসিক পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তরুণীর কোনো আপত্তিকর ছবি বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে।
আগামী ১১ অগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে।
পুলিশের অবস্থান: রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে আইনজীবী আদালতে জানান, মগরা থানার পুলিশ আধিকারিকরা তদন্ত চালাচ্ছেন এবং অভিযোগকারিণীর কাছ থেকে একটি পেন ড্রাইভ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে হাইকোর্টের নির্দেশের পর এবার তদন্তের গতি আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
অভিষেক পোড়েল অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়ায় তাঁর পেশাদার ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। এখন দেখার, ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষার পর তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।