নামী আবাসিক স্কুলে মর্মান্তিক মৃত্যু! ছাত্রের প্রাণহানির পর এবার র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে তোলপাড়!

ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ জেলার নিরাসার পিএম শ্রী জওহর নবোদয় বিদ্যালয়টি একের পর এক চাঞ্চল্যকর নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনার জেরে বর্তমানে দেশের শিক্ষা মহলে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে। বিদ্যালয় চত্বরে ঘটে চলা একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনার পর এবার নড়েচড়ে বসেছে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি (CWC)। পরিস্থিতি গুরুত্ব বিবেচনা করে শিশু কল্যাণ সমিতি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে দুটি পৃথক গুরুতর ঘটনার তদন্ত ইতিমধ্যেই শুরু করেছে। এর মধ্যে একটি ঘটনা চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ঘটেছিল, যেখানে স্কুলের সীমানা প্রাচীর টপকে বাইরে যাওয়া এক ছাত্রের জলাশয়ে ডুবে শোচনীয় মৃত্যু হয়েছিল। পাশাপাশি, সম্প্রতি দশম শ্রেণির এক পড়ুয়ার ওপর চার সহপাঠীর নির্মম रैगिंग ও শারীরিক মারধরের আরও একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে আসায় স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ভূমিকা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় স্কুলের চারজন পড়ুয়া অননুমোদিতভাবে চারদেওয়াল টপকে বাইরে চলে যায় এবং তাদের মধ্যে একজনের জলাশয়ে ডুবে মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুর ঘটনার পরই গোটা বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ছাত্রাবাসের নজরদারি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই সম্প্রতি দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে নির্মমভাবে নিগ্রহ ও র‍্যাগিং করার অভিযোগ ওঠে আরও চারজন ছাত্রের বিরুদ্ধে। এই ধারাবাহিক অপ্রীতিকর ঘটনাগুলি স্কুল প্রশাসনের চরম উদাসীনতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতাকে আবারও সকলের সামনে উন্মোচন করে দিয়েছে।

অভিভাবকদের গুরুতর অভিযোগ, পরপর দুটি বড় ঘটনার ক্ষেত্রেই স্কুল প্রশাসনের চরম গাফিলতি ও লুকোচুরি করার প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অথচ ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে না দেখে কেবল পড়ুয়াদের ওপর একতরফা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অভিভাবকদের ক্ষোভ, প্রথম ঘটনায় সীমানা প্রাচীর টপকে বাইরে যাওয়া ১০ জন ছাত্রকেই স্কুল থেকে কোনো রকম সঠিক কাউন্সেলিং ছাড়াই ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) বা ছাড়পত্র ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ বোর্ডিং স্কুলের ভেতরে ছাত্রছাত্রীদের পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ও দেখভাল নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব তো সম্পূর্ণভাবে স্কুল প্রশাসনেরই। নিজেদের ব্যর্থতা ও দায় এড়ানোর জন্যই তড়িঘড়ি কচি কচি শিশুদের ওপর শাস্তির খড়্গ নামানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।

এদিকে গোটা পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে ময়দানে নেমেছে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি। সিডব্লিউসি-র দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য মমতা অরোরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি ও পূর্বের দুর্ঘটনাগুলির গভীরে গিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে কমিটি। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, কেবল দোষী সাব্যস্ত করে শাস্তি দেওয়া বা দায় সারাটুকুই সব নয়, বরং এই সমস্ত অবহেলিত ও মানসিক চাপে থাকা শিশুদের সামগ্রিক মানসিক এবং আবেগঘন বিকাশের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের সুস্থ মানসিকতা ফিরিয়ে আনতে বিদ্যালয় চত্বরে অবিলম্বে নিয়মিত কাউন্সেলিং সেশনের ব্যবস্থা করা এবং সার্বিক নিরাপত্তা পরিকাঠামো রাতারাতি মজবুত করার কঠোর সুপারিশ করেছে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি।

স্কুলের এই বেহাল দশা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় সাংসদও। ধানবাদের জনপ্রিয় সাংসদ ঢুলু মাহতো সরাসরি স্কুল প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে জানিয়েছেন যে, নামী এই বিদ্যালয়ে একের পর এক অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে চলেছে, যা এখানকার বেপরোয়া অব্যবস্থাপনা এবং ত্রুটিপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথাই বারবার প্রমাণ করে। তিনি জোরালো ভাষায় বলেন যে, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার উভয়ই দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং উন্নত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য সরকারি কোষাগার থেকে প্রচুর অর্থ বরাদ্দ করে, শিশুদের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে ছিনিমিনি খেলার জন্য নয়। অবহেলা ও অব্যবস্থার নেপথ্যে থাকা সমস্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন সাংসদ।