সীমান্তে কড়া নজরদারি ও অপরাধ দমনে বড় ব্লু-প্রিন্ট! স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলার নিরাপত্তা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত!

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ রবিবার পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায় বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এই বৈঠকে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও বেশি মজবুত করা, পুলিশি পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও বিস্তৃত রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ দমন, আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক পাচার রোধ, সাইবার অপরাধ মোকাবিলা এবং মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল একাধিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রস্তাবিত সমস্ত পদক্ষেপ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট শীর্ষ আধিকারিকদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৈঠকের অন্যতম প্রধান সিদ্ধান্ত হিসেবে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ-র সুনির্দিষ্ট কাঠামোর আদলে বাংলায় একটি অ্যান্টি-নারকোটিকস টাস্ক ফোর্স (ANTF), অ্যান্টি-টেররিস্ট স্কোয়াড (ATS) এবং বিশেষ তদন্তকারী সংস্থা বা স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (SIA) গঠনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২১ সালে জম্মু ও কাশ্মীরে এই ধরনের এসআইএ গঠন করা হয়েছিল। এবার সীমান্তবর্তী এই রাজ্যেও সেই একই মডেলে এসআইএ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সরাসরি কেন্দ্রীয় সংস্থা এনআইএর সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় রেখে কাজ করবে। এছাড়া গ্রামীণ এলাকার মহিলাদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়মিত জনসংযোগ এবং সচেতনতামূলক প্রচারের মাধ্যমে একটি বিশেষ উইমেনস আউটরিচ প্রোগ্রাম চালু করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ-সংক্রান্ত সমস্ত সন্ত্রাসবাদ এবং ইউএপিএ (UAPA)-এর অধীনে বিচারাধীন মামলার একটি পূর্ণাঙ্গ পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা এনআইএ-কে দিয়ে করানোর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী এলাকায় সরকারি জমিতে থাকা সমস্ত অবৈধ দখলদারি দ্রুত উচ্ছেদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের আর্থিক সহায়তায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ বাহিনীকে আরও আধুনিক করা, উন্নত প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোর বিকাশ ঘটানো এবং সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে বারবার বোমা বিস্ফোরণ এবং বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনার জেরে যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ এজেন্সি গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।