সইয়ারা’র রয়্যালটি বিতর্ক চরম পর্যায়ে! প্রযোজনা সংস্থার চাপের মুখেই কি পিছু হটলেন সুরকার তনিষ্ক বাগচি?

গত দুদিন ধরে বলিউড সংগীত মহলে জোর চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জনপ্রিয় সুরকার ও গায়ক তনিষ্ক বাগচি। তাঁর একটি বিস্ফোরক সমাজমাধ্যমের বার্তাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বহুল আলোচিত ছবি ‘সইয়ারা’-র মুক্তির এক বছর পূর্তি উপলক্ষে সম্প্রতি সুরকার দাবি করেছিলেন যে, ওই ছবির শীর্ষ সঙ্গীতের জন্য তাঁর প্রাপ্য ৮ লক্ষ টাকার রয়্যালটি এখনও মেটানো হয়নি। এই বকেয়া অর্থ না পাওয়ার কথা জনসমক্ষে এনে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু সোমবার হঠাৎ করেই সমাজমাধ্যম থেকে সেই বার্তা গায়েব হয়ে যাওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— তবে কি প্রবল চাপের মুখেই নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করতে বাধ্য হলেন এই হিট সুরকার?
ঘটনার সূত্রপাত তনিষ্কের সেই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে। যেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘সইয়ারার শীর্ষ সঙ্গীত ঝুলি ভরল প্রযোজনা সংস্থা যশরাজ ফিল্মসের (YRF), অথচ আমার পকেট ফাঁকা! এখনও ৮ লক্ষ টাকা পাওনা বাকি আছে, কবে পাব জানি না।’ তনিষ্কের আরও অভিযোগ ছিল, গানটির প্রতিটি ধাপে তিনি নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন। সুরসৃষ্টি থেকে শুরু করে প্রোডাকশন, গীতিকার ও গায়কদের সঙ্গে সমন্বয়সাধন, রেকর্ডিং, ভোকাল টিউনিং, সাউন্ড ডিজাইন এবং যন্ত্রানুষঙ্গের নিখুঁত বিন্যাস— সব কিছুতেই তিনি সেরাটা দিয়েছেন। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলেই গানটি ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছে এবং বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
‘সইয়ারা’ ছবিতে তনিষ্কের পাশাপাশি ফাহিম আবদুল্লাহ এবং আরসলান নিজামির মতো অন্য সুরকাররাও কাজ করেছেন। তবে তনিষ্কের দাবি, এই গানে তাঁর পরিশ্রম ও অবদান তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি। তাই গানটিকে তিনি নিজের একান্ত নিজস্ব সৃষ্টি বলে মনে করেন এবং সেই আবেগ থেকেই তাঁর অনুযোগ ও অভিমানও বেশি। সুরকারের আরও অভিযোগ, যশরাজ ফিল্মস তাঁকে যে নামমাত্র পারিশ্রমিক দিয়েছিল, তা লাইভ পারফরম্যান্স এবং অডিও মিক্সিংয়ের মতো আনুষঙ্গিক খরচেই সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেছে। ফলে বাণিজ্যিক দিক থেকে এই বিশাল হিট গানটি থেকেও তাঁর পকেটে আসা প্রকৃত আয়ের পরিমাণ কার্যত শূন্য।
এদিকে, তনিষ্কের এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই বলিপাড়ায় হুলুস্থুল পড়ে যায়। ঘটনার এখানেই শেষ নয়, তনিষ্কের পোস্টের ঠিক পরেই যশরাজ ফিল্মসের পক্ষ থেকে একটি পাল্টা বার্তা ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মাধ্যমে। প্রযোজনা সংস্থার তরফে জোরালো দাবি করা হয়, ‘গানটির মোট তিনজন সংগীত পরিচালকের মধ্যে রয়্যালটির সমস্ত অর্থ সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চুক্তির শর্তানুযায়ী প্রত্যেক সহযোগী ও শিল্পীকে তাঁদের প্রাপ্য অর্থ ইতিমধ্যেই পরিশোধ করা হয়েছে।’ প্রযোজনা সংস্থার এই কঠোর অবস্থানের পরেই রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যায় তনিষ্কের পোস্ট।
বলিউডের ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের ধারণা, যশরাজ ফিল্মসের এই স্পষ্ট বার্তার পরেই হয়তো সুরকার তনিষ্ক বাগচি নিজের ভুল বুঝতে পেরে বা আইনি ও পেশাদারী চাপে পড়ে নিজের বক্তব্য ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। উল্লেখ্য, ছবির এক বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রযোজনা সংস্থা নানা জমকালো উদযাপনের আয়োজন করেছে। সেই সেলিব্রেশনে রাতারাতি তারকাখ্যাতি পাওয়া ছবির নায়ক-নায়িকা অহন পান্ডে ও অনীত পড্ডাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে, এক বছর পূর্তির আনন্দ উদযাপনের মাঝেই রয়্যালটি সংক্রান্ত এই জলঘোলা এবং তনিষ্কের পোস্ট মুছে যাওয়ার ঘটনায় এখন উত্তপ্ত বলিপাড়া।