সপ্তাহের শুরুতেই আকাশছোঁয়া সোনার দাম! ১ লক্ষ ৪২ হাজারে পৌঁছাল হলুদ ধাতু, জানুন আজকের লেটেস্ট রেট

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই ফের একবার ঊর্ধ্বমুখী হলো মূল্যবান ধাতুর বাজার। রবিবার ছুটির দিনের তুলনায় আজ সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, সোনার দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। স্বর্ণ শিল্প বাঁচাও কমিটি (SSBC)-র প্রকাশিত ইন্ডিকেটিভ হলমার্ক রেট অনুযায়ী, ২৪ ক্যারেট, ২২ ক্যারেট এবং ১৮ ক্যারেট—সব ধরনের সোনার দামই চড়েছে। গত কয়েকদিন বাজারে দাম মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও সপ্তাহের শুরুতেই এই নতুন ঊর্ধ্বগতি সাধারণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

আজকের প্রকাশিত এসএসবিসি ইন্ডিকেটিভ রেট অনুযায়ী প্রতি গ্রামের বাজার দর দেখে নেওয়া যাক। ২৪ ক্যারেট অর্থাৎ ৯৯৫ ফাইন গোল্ডের দাম প্রতি গ্রামে রয়েছে ১৪,১৪৫ টাকা। এছাড়া ২২ ক্যারেট বা ৯১৬ ক্যারেট সোনার বিক্রয়মূল্য প্রতি গ্রাম ১৩,৪৪০ টাকা এবং ক্রয়মূল্য ১২,৮৭১ টাকা ধার্য করা হয়েছে। পাশাপাশি, ১৮ ক্যারেট বা ৭৫০ ক্যাটাগরির সোনা প্রতি গ্রাম বিক্রি হচ্ছে ১১,০৩৫ টাকায়। অন্যদিকে, সোনা যখন ঊর্ধ্বমুখী, তখন কিছুটা স্বস্তি দিয়ে রুপোর (৯৯৯) কেজি প্রতি দাম রয়েছে ২,২৩,৩০০ টাকা। উল্লেখ্য, এই সমস্ত দামের সঙ্গে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ জিএসটি (GST) যোগ করতে হবে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে અત્યાર পর্যন্ত সোনার দাম প্রায় ৯,০০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, ১০ গ্রাম সোনার দাম যেখানে প্রায় ১.৩৩ লক্ষ টাকা ছিল, তা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৪২ লক্ষ টাকায়। এর বিপরীতে অবশ্য এই বছর রুপোর দাম সামান্য হলেও প্রায় ১০,০০০ টাকা হ্রাস পেয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে প্রতি কেজি রুপোর দাম ছিল প্রায় ২.৩০ লক্ষ টাকা, যা বর্তমানে কমে প্রতি কেজি ২.২০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি নেমে এসেছে।

কিন্তু ঠিক কী কারণে লাগাতার বাড়ছে সোনার দাম? বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজার তথা কমেক্স (COMEX) বা স্পট গোল্ডের ওঠানামার সরাসরি ও তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে ভারতীয় বাজারে। মার্কিন ডলারের সূচক (Dollar Index) এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের নীতি সংক্রান্ত প্রত্যাশা সোনার দাম নিয়ন্ত্রণের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পেলে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম বা ‘সেফ হেভেন অ্যাসেট’ হিসেবে সোনাকেই বেছে নেন, ফলে বাজারে চাহিদা বাড়ায় দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়। পাশাপাশি, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার বিনিময় হার দুর্বল হলে আমদানি খরচ বেড়ে যায়, যার জেরে দেশীয় বাজারেও সোনার দাম চড়তে শুরু করে।

গয়না বা সোনা কেনার আগে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। প্রথমত, প্রকাশিত এই দামগুলি হলো প্রতি গ্রামের ইন্ডিকেটিভ বা নির্দেশক রেট, যার সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে ৩ শতাংশ জিএসটি দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, দোকান থেকে পাকাপাকিভাবে কোনো জুয়েলারি বা গয়না কেনার সময় মেকিং চার্জ এবং গয়নার ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত চার্জ বা মজুরি দিতে হয়। এই সমস্ত আনুষঙ্গিক খরচ যুক্ত হওয়ার কারণে বিভিন্ন দোকান বা শোরুমভেদে চূড়ান্ত দাম কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্পমেয়াদে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির আর্থিক নীতি এবং বৈশ্বিক বাজারের নানা ওঠানামার ওপরই সোনার মূল্য পুরোপুরি নির্ভর করবে। তাই বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করার আগে কিংবা গয়না কেনার পরিকল্পনা থাকলে অবশ্যই প্রতিদিনের বাজারের লেটেস্ট দাম যাচাই করে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।