কালীঘাটের হাত বাঁধা! একুশে জুলাইয়ের আগে অ্যাকাউন্ট মামলায় আদালতের রায়ে জোর ধাক্কা শাসক দলের

আজ কলকাতা হাইকোর্ট থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত মামলায় একটি বড় আইনি উন্নয়ন ঘটেছে। বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, এই মুহূর্তে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-র ফ্রিজ করা অ্যাকাউন্টগুলোর ওপর আদালত কোনওরকম অন্তর্বর্তীকালীন হস্তক্ষেপ করবে না। ফলে, ইডি কর্তৃক ফ্রিজ করা তৃণমূলের ১২টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আপাতত বহাল থাকছে এবং এই অ্যাকাউন্টগুলোর ওপর থেকে তালা খুলছে না। এর ফলে একুশে জুলাইয়ের রাজনৈতিক কর্মসূচির আগে শাসক দলের আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের আইনি বাধা বহাল রইল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিচারপতি কৃষ্ণা রাও এই মামলার শুনানিতে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস এবং ইডি উভয় পক্ষকেই আগামী পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা পেশ করে নিজেদের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য জানাতে হবে। আগামী ২৬ আগস্ট বুধবার এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত। আদালতের এই নির্দেশ আসার ফলে কালীঘাট নিবাসী তৃণমূল নেতৃত্ব আপাতত কোনও স্বস্তি পেল না এবং ইডির জালেই তাদের অ্যাকাউন্টগুলো আটকে রইল।

উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত এই মামলায় ইডি পূর্বে ইসিআইআর বা ECIR দায়ের করে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে যে ১২টি অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল, তা মূলত ইডি-র সুনির্দিষ্ট নির্দেশেই ফ্রিজ করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি আরও দুটি অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখার কাজ চলছে। নব তৃণমূল গঠনের পর এক সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র অভিযোগ করেছিলেন যে, তৃণমূলের ওই সমস্ত অ্যাকাউন্টে থাকা কোটি কোটি টাকার উৎস কী এবং এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কোনও দুর্নীতির মাধ্যমে এসেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এর আগে গত ৯ জুলাই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য একটি নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেখানে বলা হয়েছিল পুলিশ তৃণমূল কংগ্রেসের যে তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছিল, তাতে পুনরায় লেনদেন চালু করতে হবে। সেই সময় প্রাক্তন বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিদিনের খরচ দেখভাল করার দায়িত্ব দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। পাশাপাশি জানানো হয়েছিল যে, চেকে তৃণমূল কংগ্রেসের দুজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার যৌথ স্বাক্ষরের ভিত্তিতেই টাকা খরচের অনুমতি প্রদান করবেন তিনি। আদালতের সেই নির্দেশ অনুসারে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই বিশেষ ব্যবস্থা বজায় থাকার কথা ছিল।

পরবর্তী সময়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চে কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবেদন জানানো হয় যে, ইডি-র ফ্রিজ করা অ্যাকাউন্টগুলো অবিলম্বে চালু করার অনুমতি দেওয়া হোক। সেই মামলার শুনানি সম্পন্ন হওয়ার পর আদালত রায়দান স্থগিত রেখেছিল। অবশেষে আজ বিচারপতি তৃণমূল কংগ্রেসের সেই আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন। এর ফলে এই মামলায় পূর্বের অন্তর্বর্তী পরিস্থিতি এবং ইডি-র ফ্রিজ করার সিদ্ধান্তই বহাল থাকল, যা শাসক শিবিরকে একুশে জুলাইয়ের প্রাক্কালে নতুন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলল।