সংসদ অভিযানের আগেই রণক্ষেত্র দিল্লি! ককরোচ জনতা পার্টির হুংকারে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয়ে রাজধানী

বাদল অধিবেশনের প্রাক্কালে রাজধানী দিল্লিতে চরম উত্তেজনা ও কড়া নিরাপত্তার চাদরে মোড়া এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের সমস্ত নিষেধাজ্ঞা ও আপত্তিকে সরাফেফা করে ককরোচ জনতা পার্টি বা CJP-র পূর্বঘোষিত ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে মধ্য দিল্লি। NEET পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় থেকে এই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা করেছে সংগঠনটি। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে এই বিশাল বিক্ষোভ মিছিলের জন্য কোনো ধরনের প্রশাসনিক অনুমতি চাওয়া হয়নি এবং কোনো অনুমতি দেওয়াও হয়নি। তা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নয়াদিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (DCP) সচিন শর্মা এক্স (X) হ্যান্ডেলে স্পষ্ট সতর্কবার্তা জারি করে জানিয়েছেন যে, গোটা জেলাজুড়ে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ১৬৩ ধারা অর্থাৎ পূর্বেকার ১৪৪ ধারার অনুরূপ কঠোর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করা হয়েছে। পূর্বানুমতি ছাড়া যন্তর মন্তরের নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়ে কোনো প্রকার জমায়েত, মিছিল বা আন্দোলন করার জো নেই। পুলিশ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে যে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ২২৩ ধারা সহ একাধিক কঠোর আইনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সংসদ ভবন চত্বর, পার্লামেন্ট স্ট্রিট, সেন্ট্রাল ভিস্তা, কনট প্লেস এবং শঙ্কর চৌকসহ সমস্ত সংবেদনশীল এলাকাগুলিকে সুদৃঢ় তিনস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। সংসদ অভিমুখে যাওয়া প্রতিটি রাস্তা ও প্রবেশপথগুলিতে বসানো হয়েছে ভারী বহুস্তরীয় ব্যারিকেড। সন্দেহভাজন যানবাহন আটকে চলছে ডোর-টু-ডোর ও নখদর্পণে তল্লাশি। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল (Rapid Response Team)-কে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং সিসিটিভির মাধ্যমে চলছে কড়া নজরদারি। এর পাশাপাশি যাত্রী সুরক্ষা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (DMRC) জনপথ, রাজীব চৌক, প্যাটেল চৌক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবা তীর্থ সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।