ঝুড়িতে হাত দিতেই ছ্যাঁকা! ডিমের দামের সেঞ্চুরিতে নাভিশ্বাস আমজনতার, জানুন কবে কমবে?

ডিম ও মাংসপ্রেমী বাঙালির পাতে এখন যেন আগুন! সারাদেশে ডিমের দাম লাগামহীনভাবে বেড়েই চলেছে। খুচরো বাজারে একটি ডিমের দাম ৮.৫০ টাকা থেকে ৯ টাকায় পৌঁছেছে, যা সাধারণ মানুষের বাজেটে বড়সড় টান ফেলেছে। পোল্ট্রি শিল্পের সংশ্লিষ্ট মহল জানাচ্ছে, মূলত পোল্ট্রি ফিডের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে শ্রাবণ মাসের শুরুতে ডিম ও মুরগির মাংসের চাহিদা কমলে জুলাই মাসের শেষ নাগাদ দাম কিছুটা কমার ক্ষীণ সম্ভাবনা রয়েছে।

ডিম ও মুরগির মাংসের দাম বৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে পোল্ট্রি খাদ্যের উপকরণের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। মুরগির খাবারের প্রধান উপাদান ভুট্টা ও সয়াবিন মিলের দাম গত কয়েক মাসে কয়েকগুণ বেড়েছে। পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। ন্যাশনাল এগ কোঅর্ডিনেশন কমিটি (NECC)-র রিপোর্ট অনুযায়ী, হায়দ্রাবাদের মতো বড় বাজারে গত এক মাসে ডিমের খামার-মূল্য ১৫ শতাংশ বেড়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।

ওয়েস্ট বেঙ্গল পোল্ট্রি ফেডারেশনের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, কলকাতায় ডিমের পাইকারি দাম ৭.৭০ টাকা। ঠিক এক বছর আগে অর্থাৎ ২০২৫ সালে আজকের দিনে এই দাম ছিল মাত্র ৫.৭৫ টাকা। একইভাবে চিকেনের পাইকারি দামও বর্তমানে ১৪০-১৪৮ টাকা (গোটা) এবং ২১০ টাকা (কাটা) প্রতি কেজি। এক বছরে এই ব্যবধানই বলে দিচ্ছে কতটা বেড়েছে খরচ।

পোল্ট্রি ফিডের ৫৫ শতাংশই ভুট্টা, যার দাম মার্চ মাস থেকে ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। ফিডের ২২ শতাংশ সয়াবিন মিলের দাম বেড়েছে ৬৪ শতাংশেরও বেশি। আবার ফিডে ব্যবহৃত অ্যামিনো অ্যাসিডের দাম হয়েছে সাড়ে তিনগুণ। ইথানল কোম্পানিগুলো ব্যাপকভাবে ভুট্টা কেনায় বাজারে এর তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও গত বছর ভারতে সয়াবিন উৎপাদন ২০ শতাংশ কমে যাওয়াও দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এর ওপর জুন মাসের তীব্র দাবদাহে ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে, ফলে অনেক শহরে চিকেনের খুচরা দাম কেজিপ্রতি ২৫০-২৬০ টাকায় ঠেকেছে।

এখন ক্রেতাদের ভরসা শ্রাবণ মাস। সাধারণত এই সময়ে ধর্মীয় কারণে উত্তর ভারতসহ দেশের বহু মানুষ আমিষ খাবার থেকে দূরত্ব বজায় রাখেন। চাহিদায় ভাটা পড়লে দাম কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ার আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে বর্ষা স্বাভাবিক না হলে এবং ভুট্টা-সয়াবিনের বাজার চড়া থাকলে আগামী দিনেও এই মূল্যবৃদ্ধির দাপট বজায় থাকতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।