ইম্পা-র মসনদ বদল! রতন সাহার হাত ধরেই কি নতুন মোড় টলিউডের অন্দরের লড়াইয়ে?

টলিউডের বিনোদন জগতে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহ যে প্রভাব ফেলেছে, তার আঁচ এসে পড়েছে প্রযোজক সংস্থা ‘ইম্পা’ (EIMPA)-র অন্দরেও। দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ইম্পা-র সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন পিয়া সেনগুপ্ত। ১৬ জুন সংগঠনের অফিসে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা পড়ার পর থেকেই টলিপাড়ায় শুরু হয়েছে নতুন করে সমীকরণ খোঁজার পালা। এই পরিস্থিতির মাঝেই সংগঠনের নতুন মুখ হিসেবে উঠে আসছেন প্রযোজক রতন সাহা। শুক্রবার ইম্পা-র সাধারণ বৈঠকের পর রতনবাবুর বক্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন কৌতূহল।

অনেকেই প্রশ্ন তুলছিলেন, পিয়া সেনগুপ্তের সঙ্গে রতন সাহার বিরোধের জেরেই কি ইম্পা-র এই টালমাটাল অবস্থা? এই বিষয়ে রতনবাবু অত্যন্ত কৌশলী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “পিয়ার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো মতবিরোধ নেই। ফোনে আমাদের নিয়মিত কথাবার্তা হয়।” এমনকি শুক্রবারের সাধারণ বৈঠকেও তিনি পিয়াকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন। রতনবাবুর কথায়, “আমরা শুধু চেয়েছিলাম সংগঠনের নেতৃত্ব বদল হোক। নতুন প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া সময়ের দাবি ছিল।” কিন্তু পিয়ার নীরবতা ঘিরে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ২২ মে-র পর থেকে প্রাক্তন সভাপতি জনসমক্ষে সেভাবে আসেননি। তিনি অসুস্থ বলে জানিয়েছেন, তবে সুস্থ হলে সব প্রশ্নের উত্তর দেবেন বলে বার্তা দিয়েছেন।

এতটাই যদি সব ঠিক থাকে, তবে ইম্পা-র ভেতরে ‘ওরা-আমরা’ বিভেদ কেন? রতন সাহা এই বিভাজনের জন্য সংগঠনের নেপথ্যে থাকা এক প্রথম সারির প্রযোজককে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। সরাসরি নাম না নিলেও, তাঁর ইঙ্গিত স্পষ্টতই প্রীতম জালানের দিকে। রতনবাবুর অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে সংগঠনের অন্দরে এই বিভেদ তৈরি করা হচ্ছে। এমনকী, ১৬ জুলাইয়ের সাধারণ সভা বানচালের যে চেষ্টা হয়েছিল, তার পেছনেও নাকি রয়েছে একই চক্রান্ত। যদিও আদালতের নির্দেশে সেই পরিকল্পনা নস্যাৎ হয়ে যায়।

সংগঠনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রতন সাহা অত্যন্ত ইতিবাচক। তিনি বলেন, “আমি সবাইকে নিয়ে পথ চলতে বিশ্বাসী। বাংলা বিনোদন দুনিয়ার উন্নতির জন্য ইম্পা-কে একজোট হওয়া জরুরি।” পিয়া এবং তাঁর কার্যকরী কমিটি যে কৃষ্ণ নারায়ণ দাগাকে নতুন সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন, তাকে বৈধতা দিতে নারাজ রতনবাবু। তাঁর স্পষ্ট দাবি, সংগঠনের বাইরে বৈঠক করে নেওয়া সিদ্ধান্ত আইনিভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এখন ১২ সদস্যের একটি ওয়ার্কিং কমিটি সংগঠনের কাজ সামলাচ্ছে। ভবিষ্যতে স্বচ্ছ ও বৈধ নির্বাচনের মাধ্যমেই সংগঠনের পরবর্তী সভাপতি বেছে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। টলিউডের এই প্রযোজক গোষ্ঠীর অন্দরের লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।