পোষ্য টিয়া হারিয়ে দিশেহারা পরিবার! খুঁজে দিলেই মিলবে ৫০ হাজার টাকা, আগ্রায় তোলপাড়!

তাজমহলের শহর আগ্রায় বর্তমানে এক অন্যরকম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি পোষ্য টিয়া পাখি। আর এই আলোচনা শুধু শহরবাসীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতেও। পোষ্য টিয়া পাখি ‘মাও’-কে হারিয়ে দিশেহারা এক পরিবার এখন তাকে ফিরে পেতে শহরজুড়ে শুরু করেছে এক অভাবনীয় অনুসন্ধান। সেই অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তারা টিয়ার সন্ধানদাতাকে দেবে নগদ ৫০ হাজার টাকার পুরস্কার। এই ঘোষণা জানাজানি হতেই হইচই পড়ে গিয়েছে এলাকা জুড়ে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ‘মাও’ শুধু একটি পোষ্য ছিল না, সে ছিল তাদের পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। খাঁচায় থাকার বদলে সে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মতোই মিশে থাকত সবার সাথে। কথা বলা থেকে শুরু করে আদুরে অভ্যাসে সে হয়ে উঠেছিল বাড়ির মধ্যমণি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, কদিন আগেই বাড়ির খাঁচা খুলে পালিয়ে যায় মাও। এরপর থেকেই গোটা বাড়ির সবার নাওয়া-খাওয়া বন্ধ। তাকে ফিরে পাওয়ার আশায় দিশেহারা পরিবারের সদস্যরা কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখতে চাইছেন না।

এই টিয়া পাখিকে খুঁজে পেতে আগ্রা শহরের মোড়ে মোড়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোতে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে বড় বড় ব্যানার এবং হোর্ডিং। সেখানে স্পষ্টভাবে মাও-এর ছবিসহ পরিবারের যোগাযোগের নম্বর দেওয়া হয়েছে। ব্যানারে লেখা রয়েছে, যে ব্যক্তি মাও-এর খোঁজ দেবেন বা তাকে সুস্থভাবে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবেন, তাকে পুরস্কার হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। সাধারণত পোষ্য প্রাণী হারিয়ে গেলে মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে বা স্থানীয় এলাকায় খোঁজ চালায়, কিন্তু একটি টিয়া পাখির খোঁজে এতটা উদ্যোগ এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হোর্ডিং লাগানোর ঘটনা সত্যিই বিরল।

পরিবারের সদস্যদের এই আবেগ এবং উদ্যম ইতিমধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দাদের নজর কেড়েছে। মানুষ অবাক হলেও পরিবারের এই ভালোবাসাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই খবরটি ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। নেটিজেনদের একাংশ বলছেন, পোষ্যরা যে পরিবারের কতখানি কাছের হয়, তা এই পরিবারটি প্রমাণ করে দিয়েছে। ৫০ হাজার টাকার পুরস্কারের লোভ নয়, বরং পরিবারের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার টানেই এখন গোটা শহর ‘মাও’-এর সন্ধানে নেমে পড়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই, আগ্রার এই পরিবারের আদরের ‘মাও’ কি সত্যিই আবার ফিরে আসবে তার আপন ঠিকানায়? উত্তর জানতে এখন প্রহর গুনছে গোটা শহর।