কেঁপে উঠল প্রশান্ত মহাসাগর! ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে মেক্সিকো ও গুয়াতেমালায় চরম আতঙ্ক

শুক্রবার দক্ষিণ মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে আঘাত হেনেছে অত্যন্ত শক্তিশালী এক ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে এই কম্পনের তীব্রতা ছিল ৭.৪। ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের জেরে মেক্সিকোর বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে প্রতিবেশী দেশ গুয়াতেমালাতেও। কম্পনের তীব্রতায় বহুতল ভবনগুলো থরথর করে কেঁপে ওঠে, যার ফলে আতঙ্কে ঘরবাড়ি ও অফিস ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন সাধারণ মানুষ।

‘জিওশেক কমিউনিটি সিসমিক নেটওয়ার্ক’-এর তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মেক্সিকোর পুয়ের্তো মাদেরো উপকূল থেকে প্রায় ৭১ কিলোমিটার দূরে প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পনের উৎস থাকায় এর প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের পরপরই ‘ইউএস সুনামি ওয়ার্নিং সিস্টেম’ প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের বেশ কয়েকটি এলাকার জন্য সুনামির সতর্কতা জারি করেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে ভয়ের সঞ্চার করেছে।

ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, মেক্সিকোর বিভিন্ন শহর ও গুয়াতেমালার একাধিক অঞ্চলে ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে। জরুরি সতর্কবার্তা পাওয়ার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন তড়িঘড়ি করে বিভিন্ন অফিস ও বসতবাড়ি থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করে। ভূমিকম্পের পর মেক্সিকো ও গুয়াতেমালা—উভয় দেশেই জরুরি পরিষেবার কর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের সম্ভাব্য আফটারশক বা পরবর্তী কম্পন থেকে সাবধান থাকতে নির্দেশ দিয়েছে এবং নিরাপত্তা বিধিনিষেধ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে এখনো কোনো বড় ধরনের প্রাণহানি বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পের ফলে রাস্তাঘাট, সেতু, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং টেলিযোগাযোগ পরিকাঠামোর কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ দল মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে এটি অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে গণ্য করা হচ্ছে।