“জাল করা অসম্ভব, বেশি টেকসই!”-অস্ট্রেলিয়ার ধাঁচেই এবার ভারতে চালু হচ্ছে প্লাস্টিকের নোট?

বাজারে চলন্ত ১০ ও ২০ টাকার নোটের অবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কাগজের নোট সহজেই ছিঁড়ে যাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সমস্যায় নাজেহাল সবাই। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এবার বড়সড় উদ্যোগ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার ও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। সব ঠিক থাকলে, খুব শীঘ্রই ভারতেও চালু হতে চলেছে পলিমার বা প্লাস্টিকের নোট।
পাইলট প্রজেক্টের পথে RBI: প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগামী বছর থেকেই ১০ টাকা ও ২০ টাকার নোট দিয়ে এই নতুন ব্যবস্থার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করতে পারে আরবিআই। এটি মূলত একটি পাইলট প্রজেক্ট। প্রাথমিকভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই নোটের কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব যাচাই করে দেখা হবে। পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হলে ২০২৭ সাল থেকে দেশজুড়ে বড় আকারে পলিমার নোটের প্রচলন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কী থাকছে এই নতুন নোটে? ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নোট মুদ্রণ প্রাইভেট লিমিটেড বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে ‘এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট’ বা আগ্রহপত্র চেয়েছে। এই নোটগুলি তৈরি হবে ‘বায়াক্সিয়ালি ওরিয়েন্টেড প্রলিপ্রোপিলিন’ (BOPP) নামক পলিমার শিট দিয়ে। নোটের নিরাপত্তার জন্য এতে থাকছে অত্যাধুনিক সব ফিচার, যেমন:
ক্লিয়ার উইন্ডো উইথ পোট্রেট: নোটের একাংশে স্বচ্ছ জানালা।
মেটালিক নিউমেরাল: ধাতব মুদ্রণশৈলীর নম্বর।
ম্যাগনেটিক সিউডো থ্রেড ও শ্যাডো ইমেজ: জালিয়াতি রুখতে বিশেষ নিরাপত্তা সূত্র।
ইরিডিসেন্ট প্যাটার্ন: আলোর প্রতিফলনে বিশেষ নকশা।
কেন প্লাস্টিকের নোটই সেরা? উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সালে অস্ট্রেলিয়া প্রথম পলিমার নোটের ব্যবহার শুরু করেছিল। বর্তমানে বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে এই প্রযুক্তির নোট প্রচলিত। কাগজের নোটের তুলনায় পলিমার নোটের সুবিধা অনেক: ১. স্থায়িত্ব: এই নোট সহজে ছিঁড়ে যায় না এবং জল বা ময়লা দ্বারা সহজে নষ্ট হয় না। ২. নিরাপত্তা: পলিমার নোটে জালিয়াতি করা প্রায় অসম্ভব, যা দেশের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৩. দীর্ঘজীবী: কাগজের নোটের তুলনায় এগুলি অনেক বেশিদিন সচল থাকে।
জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহের দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ আগামী ১৮ অগাস্ট। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভারতের আর্থিক লেনদেনে এক নতুন ও উন্নত অধ্যায়ের সূচনা হবে।