তৃণমূলের অন্দরে বড় বিদ্রোহ: অভিষেককে নিশানা করে চরম তোপ দাগলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের আঁচ যেন ক্রমেই বাড়ছে। এবার দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি ও বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ডিপি থেকে অভিষেকের ছবি সরিয়ে ফেলার পর, সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের যাবতীয় ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি।

‘সংগঠন ধ্বংসের কারিগর অভিষেক’ রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক কাঠামো ধ্বংসের নেপথ্যে রয়েছেন একমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “দলের বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি আমার বিন্দুমাত্র মান্যতা নেই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ মদতেই জেলাস্তরে দুর্নীতিগ্রস্ত ও অযোগ্য নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।” প্রবীণ এই নেতার অভিযোগ, তোলাবাজি ও অসামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রশ্রয় দেওয়ায় দল আজ অবক্ষয়ের মুখে।

ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির জন্য দায়ি অভিষেক? রাজনৈতিক বঞ্চনার পাশাপাশি রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের মর্মান্তিক পরিণতির জন্য সরাসরি অভিষেককে দায়ী করেছেন। আবেগপ্রবণ রাজীব বলেন, “হাওড়ার মতো শক্ত ঘাঁটি থেকে আমাকে সরিয়ে দিয়ে পূর্ব আলোচনা ছাড়াই ডেবরা থেকে প্রার্থী করা হয়েছিল। এই চরম অপমানের জেরে আমার স্ত্রী প্রচণ্ড মানসিক আঘাত পান, যা শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু ডেকে আনে। আমি শেষ মুহূর্তে তাঁর সঙ্গে কথাও বলতে পারিনি। এই সবকিছুর জন্য দায়ী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।”

শুভেন্দু অধিকারীর পথেই কি রাজীব? শুভেন্দু অধিকারীর দলত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে রাজীব দাবি করেন, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের অগণতান্ত্রিক আচরণের কারণেই শুভেন্দুকে দল ছাড়তে হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, দলে অন্য কাউকে সুযোগ না দিয়ে পরিকল্পিতভাবে অভিষেককে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টার ফলেই বহু সিনিয়র নেতা আজ কোনঠাসা।

লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পূর্বাভাস আগামী লোকসভা নির্বাচন নিয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বড় ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন রাজীব। তাঁর দাবি, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনীত প্রার্থীদের কারণে পরের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল অন্তত ৮০ থেকে ১০০টি আসনে নিশ্চিতভাবে পরাজিত হবে।” সাধারণ মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন নেতৃত্বের পক্ষে জয়লাভ অসম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রকাশ্য বিদ্রোহ রাজ্যের শাসকদলের অন্দরে অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য থাকলেও, বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে রাজীবের এই ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে কোন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।