বিমানবন্দরের মসজিদ সরানোর জের! MLA সৌরভ সিকদারের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল ঢাকা

কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চত্বরে থাকা একটি মসজিদ স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে পৌঁছেছে বাংলাদেশে। বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ ও নিরাপত্তার স্বার্থে মসজিদ সরানোর পক্ষে জোরালো সওয়াল করায় দমদম উত্তরের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ সিকদারের বিরুদ্ধে ঢাকার রাজপথে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। বিধায়কের মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে স্লোগান ওঠায় তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা।
ঢাকায় বিক্ষোভের নেপথ্যে কী? শুক্রবার ঢাকার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের বাইরে একদল বিক্ষোভকারী জড়ো হন। তাঁদের হাতে থাকা পোস্টার ও ব্যানারে সরাসরি সৌরভ সিকদারের নাম উল্লেখ করে তাঁর ফাঁসির দাবি তোলা হয়। বিধায়ককে মসজিদ স্থানান্তরের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করেই এই প্রতিবাদ বলে জানা গেছে।
কী বলছেন সৌরভ সিকদার? বিষয়টি নিয়ে বিধায়ক সৌরভ সিকদার জানান, সাংবাদিকদের মাধ্যমে তিনি বিক্ষোভের ভিডিও হাতে পেয়েছেন। তিনি বলেন, “ভারতে এই ধরনের কার্যকলাপ সম্ভব নয় বলে বাংলাদেশে চক্রান্ত করা হচ্ছে। এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমি মনে করি, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও সম্প্রসারণের কাজের গতি দেখেই একদল মানুষ হতাশ হয়ে এই ধরনের কাজ করছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর আক্রমণের পরই এই ধরনের হুমকি এল, যা তদন্তসাপেক্ষ। তিনি গোটা বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানিয়েছেন।
মসজিদ সরানোর দাবি কেন? বিজেপি বিধায়কের দাবি, এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার জমিতে থাকা ওই মসজিদটি বিমানবন্দরের উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীসহ ভিভিআইপিদের বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে বলে দাবি পাইলটদের একাংশের। এছাড়াও খারাপ আবহাওয়ায় বিমান অবতরণের ক্ষেত্রে ওই স্থাপনাটি প্রযুক্তিগত সমস্যা তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। এই জায়গাটির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিধায়ক।
বর্তমানে পরিস্থিতি কী? উত্তেজনা প্রশমনে বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। মসজিদ স্থানান্তর নিয়ে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিধায়ক। নিরাপত্তার খাতিরে এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের যুক্তিতে তিনি নিজের দাবিতে অনড় থাকলেও, এই ইস্যু ঘিরে রাজ্যের রাজনীতি এখন দুই মেরুতে বিভক্ত।