এবার আরও ঘন ও পুষ্টিকর দুধ পাবেন মা-শিশুরা! আদিবাসী এলাকায় কুपोষণ রুখতে মোদী-ভূপেন্দ্র জুটির মাস্টারস্ট্রোক!

গুজরাতের প্রত্যন্ত ও আদিবাসী অঞ্চলের মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবার এক বিরাট পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। কুপুষ্টির বিরুদ্ধে লড়াইকে আরও জোরদার করতে মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেলের নেতৃত্বাধীন গুজরাত সরকার তাদের ঐতিহাসিক ‘দুধ সঞ্জীবনী যোজনা’ (Dudh Sanjeevani Yojana) নিয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে, রাজ্যের সমস্ত আদিবাসী ইন্টিগ্রেটেড চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস (ICDS) ব্লকে এখন থেকে এই প্রকল্প পুরোপুরি কার্যকর করা হচ্ছে।
৫৩টি নতুন ব্লকে যোজনা সম্প্রসারণ ও হাই-ফ্যাট দুধের ধামাকা
রাজ্যের মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, এতদিন যে ৫৩টি আদিবাসী আইসিডিএস ব্লক এই প্রকল্পের বাইরে ছিল, সেগুলিতেও এবার দুধ সঞ্জীবনী যোজনা চালু করার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
তবে এবারের সবচেয়ে বড় চমক হলো— প্রথমবারের মতো এই প্রকল্পের আওতায় ‘হাই-ফ্যাট ফোর্টিফাইড’ (High-Fat Fortified Milk) দুধ দেওয়ার একটি পাইলট প্রজেক্টের সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আদিবাসী অঞ্চলের শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং স্তন্যদায়ী মায়েরা অনেক বেশি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ দুধ পাবেন।
🥛 মোদীর হাত ধরে শুরু, আজ এক বিশাল মহীরূহ
উল্লেখ্য, আজ থেকে প্রায় ১৭ বছর আগে, ২০০৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী (এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) নরেন্দ্র মোদী মাত্র ৬টি আদিবাসী জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রকল্প শুরু করেছিলেন। এর অধীনে সুবিধাভোগীদের ২০০ মিলি ফোর্টিফাইড ফ্লেভার্ড দুধ দেওয়া হতো।
গত ৫ বছরে এই যোজনা ৬টি জেলা থেকে বেড়ে ২০টি জেলায় পৌঁছায়। বর্তমানে বানাসকাণ্ঠা, সবরকাণ্ঠা, সুরাট, তাপি, নর্মদা এবং ডাঙ্গের মতো আদিবাসী প্রধান জেলাগুলির পাশাপাশি কচ্ছ ও জামনগরের মতো উন্নয়নশীল এলাকাতেও এটি সফলভাবে চলছে। এবার বাকি থাকা ৫৩টি ব্লকও এর আওতায় চলে আসায় এই যোজনার সুবিধা পাবেন আরও হাজার হাজার মা ও শিশু।
📊 বাড়ানো হলো ফ্যাটের পরিমাণ: কী বদল আসছে?
এতদিন এই প্রকল্পের অধীনে যে ফোর্টিফাইড দুধ দেওয়া হতো, তাতে ফ্যাটের পরিমাণ ছিল মাত্র ১.৫ শতাংশ। কিন্তু নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুধের পুষ্টিগুণ ও শক্তি বাড়াতে ফ্যাটের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হচ্ছে:
নর্মদা, দাহোদ এবং ডাঙ্গ জেলায় দেওয়া হবে ৩ শতাংশ ফ্যাট যুক্ত দুধ।
বলসাড় এবং সবরকাণ্ঠা জেলায় দেওয়া হবে ৪.৫ শতাংশ ফ্যাট (৯ গ্রাম) যুক্ত অত্যন্ত পুষ্টিকর দুধ।
এই অতিরিক্ত ফ্যাট শিশুদের শারীরিক বিকাশ ও দৈনন্দিন শক্তির চাহিদা মেটাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করবে।
💰 ৩৮ কোটির বরাদ্দ এবং জালিয়াতি রুখতে কড়া নজরদারি
এই যোজনার ব্যাপক সম্প্রসারণের জন্য গুজরাত সরকার মোট ৩৮.০১ কোটি টাকার বড়সড় বাজেট বরাদ্দ করেছে। যার মধ্যে হাই-ফ্যাট দুধের পাইলট প্রজেক্টের জন্যই রাখা হয়েছে ৩০.৩৫ লক্ষ টাকা। এই সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে রাজ্য সরকার।
প্রকল্পে যাতে কোনো রকমের দুর্নীতি বা জালিয়াতি না হয়, তার জন্য প্রশাসন সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার নীতি অবলম্বন করেছে:
দুধ কেনার পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হবে সরকারি GeM পোর্টালের মাধ্যমে।
আর্থিক লেনদেন হবে সরাসরি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে (DBT পদ্ধতিতে)।
প্রকল্পের কার্যকারিতা খতিয়ে দেখতে নিয়মিত সোশ্যাল অডিট এবং থার্ড পার্টি ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সম্পাদকের কলমে: গুজরাত সরকারের এই দুধ সঞ্জীবনী যোজনা আসলে শুধু একটা দুধ বিতরণের প্রকল্প নয়; এটি রাজ্যের আগামী প্রজন্মের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যতের জন্য এক দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ। কুপুষ্টির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুজরাত সরকারের এই অল-আউট আক্রমণ নিঃসন্দেহে দেশের অন্যান্য রাজ্যের জন্যও একটি বড় উদাহরণ হয়ে উঠতে চলেছে।