যন্তর মন্তরে মৃত্যুশয্যায় সোনম ওয়াংচুক! বিবেক ওবেরয়ের মন্তব্যে কেন তোলপাড় নেটপাড়া?

দিল্লির যন্তর মন্তরে পরিবেশবিজ্ঞানী সোনম ওয়াংচুকের আমরণ অনশন আজ ২০ দিনে পা দিল। তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমাবনতি এবং জীবন সংশয় নিয়ে যখন গোটা দেশ উদ্বিগ্ন, তখনই এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এলেন বলিউড অভিনেতা বিবেক ওবেরয়। একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিবেক অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে বল ঠেলে দিলেন রাজনীতিকদের কোর্টে। সাফ জানিয়ে দিলেন, তিনি অভিনেতা, নেতা নন। তাই রাজনৈতিক ইস্যুতে মাথা ঘামাতে তিনি রাজি নন।

অভিনেতার কথায়, “আমি অভিনেতা, নেতা নই। তাই রাজনৈতিক বিষয়ে আমি মাথা ঘামাই না। আমরা শুধু দেখি আর শিখি। জীবনে এখনও অনেক কিছু দেখা এবং শেখার বাকি রয়েছে।” বিবেকের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ডিজিটাল মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, জাতীয় গুরুত্বের এই ইস্যুতে একজন তারকা হিসেবে তাঁর আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করা উচিত ছিল। আবার অনেকের মতে, বিতর্ক এড়াতে তিনি রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়া থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন।

সরাসরি আন্দোলনের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো মন্তব্য না করলেও, বিবেক গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁর মতে, একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক দেশে ভিন্ন মতাদর্শ থাকা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, “আমি লক্ষ্য করেছি যে এটি সম্পূর্ণ একটি নতুন বিষয়। তবে আমার মনে হয়, একটি সুস্থ গণতন্ত্রে প্রতিটি মানুষের নিজের মতামত রাখার জায়গা থাকা উচিত। মানুষ যদি তাঁদের ক্ষোভ বা মতামত প্রকাশ করতে পারেন, তবে তা সুস্থ গণতন্ত্রেরই লক্ষণ।” বিবেকের এই নিরপেক্ষ অবস্থান আন্দোলনের বাস্তবতা এবং তাঁর ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে।

উল্লেখ্য, নিট (NEET) পরীক্ষার অনিয়ম, প্রশ্ন ফাঁস এবং কেন্দ্রের উদাসীনতার অভিযোগে গত ২৮ জুন থেকে অনশনে বসেছেন সোনম ওয়াংচুক। তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় তাঁর ওজন ৪০০ গ্রাম কমেছে এবং অনশন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত তিনি মোট ৮.৯ কেজি ওজন হারিয়েছেন। বর্তমানে তাঁর ওজন ৫৭.১৫ কেজিতে নেমে এসেছে, যা চিকিৎসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। দিল্লি হাইকোর্টও তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

গোটা দেশ যখন সোনম ওয়াংচুকের জীবনের সুরক্ষার জন্য প্রার্থনা করছে, তখন বিবেকের এই ‘নিরপেক্ষ’ মন্তব্য নতুন করে চর্চার খোরাক জুগিয়েছে। একদিকে যখন ওয়ংচুকের মতো ব্যক্তিত্ব দেশের ভবিষ্যতের জন্য প্রাণ বাজি রেখেছেন, তখন বিবেকের মতো তারকারা রাজনীতির দোহাই দিয়ে এড়িয়ে যাওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলছে সাধারণ মানুষ। তবে একথা অনস্বীকার্য যে, সোনম ওয়াংচুকের এই আন্দোলন কেবল একটি রাজনৈতিক ইস্যু নয়, এটি দেশের ছাত্রসমাজ এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সবার।