মমতা-অভিষেককে বড় ধাক্কা! তৃণমূল ছেড়ে মণীশ গুপ্তর বিস্ফোরক ঘোষণা, কী বললেন শুভেন্দু সম্পর্কে?

রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে একের পর এক ভূমিকম্প! কোয়েল মল্লিকের পর এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার প্রাক্তন সদস্য মণীশ গুপ্ত তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিলেন। শুক্রবারই তিনি তাঁর ইস্তফাপত্র মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের যে আগুন জ্বলেছিল, মণীশ গুপ্তের এই পদত্যাগ সেই আঁচকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।
দীর্ঘদিন দলে নিষ্ক্রিয় থাকার পর শুক্রবার সকালেই তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, “এই দলটায় আমার আর কিছু করার নেই। তাই অযথা সময় নষ্ট না করে ছেড়েই দিলাম।” ইস্তফার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরপরই শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে দেখা গেল প্রাক্তন এই মন্ত্রীকে। তিনি বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী একজন দক্ষ প্রশাসক এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা। আমার বিশ্বাস, রাজ্যকে তিনি অনেক উঁচু জায়গায় নিয়ে যাবেন।” মণীশ গুপ্তের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য সরাসরি ইঙ্গিত দেয় যে তিনি খুব শীঘ্রই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পথে হাঁটছেন।
‘২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূলের ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। কোয়েল মল্লিকের মতো তারকা সাংসদের ইস্তফা হোক কিংবা মমতা-অভিষেক শিবিরের একের পর এক বিশ্বস্ত নেতার প্রস্থান—তৃণমূল আজ কার্যত দিশেহারা। ইতিমধ্যে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদে ইস্তফা দেওয়া সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকরা বিজেপির হাত ধরে রাজ্যসভায় ফিরেছেন। এর পাশাপাশি, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ জন সাংসদ ‘বিদ্রোহ’ করে এনসিপিআই দলে যোগ দিয়ে তৃণমূলকে আরও দুর্বল করে দিয়েছেন। এমনকি অনুব্রত মণ্ডলের মতো পোড় খাওয়া নেতাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়ে ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ শিবিরে নাম লিখিয়েছেন।
রাজনৈতিক মহলের দাবি, মণীশ গুপ্তের এই প্রস্থান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে শুধু একটি রাজনৈতিক ধাক্কা নয়, এটি দলের ক্রমবর্ধমান অপমৃত্যুর সংকেত। ২১শে জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশের আগে তৃণমূলের এই চরম ভাঙন দলের নিচু তলার কর্মীদের মনেও গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। মণীশ গুপ্তের মতো বর্ষীয়ান নেতার প্রস্থান নিশ্চিতভাবেই মমতা শিবিরের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। একের পর এক হেভিওয়েট নেতা দল ছাড়ায় তৃণমূল কংগ্রেস এখন কার্যত অস্তিত্বের সংকটে। আগামী দিনে আরও কত বড় বড় নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশ থেকে সরে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।