“মমতা সব জানতেন!” জেল থেকে ছাড়া পেতেই বিস্ফোরক পার্থ চট্টোপাধ্যায়, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ফের এক চরম অস্বস্তির নাম পার্থ চট্টোপাধ্যায়। দুর্নীতির মামলায় দীর্ঘ জেলবন্দি জীবন কাটিয়ে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই প্রাক্তন এই মন্ত্রী যেন বোমা ফাটাচ্ছেন। দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ থেকে শীর্ষ নেতৃত্বের কৌশল—সবকিছু নিয়েই একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্যে বিদ্ধ করছেন একদা সতীর্থদের। পার্থর দাবি, তৃণমূলের অন্দরমহলের সমস্তটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নখদর্পণে ছিল এবং তাঁর মৌন সম্মতিতেই অনেক কিছু ঘটেছে।

মমতার দিকে আঙুল পার্থর:
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পার্থ চট্টোপাধ্যায় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা করে বলেন, “দলের অন্দরে যা কিছু ঘটেছে, সবটাই দিদি জানতেন। তিনি সব কিছুই ঘটতে দিয়েছেন।” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। শুধু তাই নয়, পার্থর অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনীতির মূল স্রোতে আনার প্রক্রিয়ায় শুভেন্দু অধিকারীর মতো নেতাদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, শুভেন্দুর গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই দলে অসন্তোষের বীজ বপন করা হয়েছিল, যা আজ তৃণমূলকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

অভিষেক বনাম বিদ্রোহ:
দলীয় নেতৃত্বের একাংশ, বিশেষত মদন মিত্রসহ একাধিক নেতা যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং মাঠে নেমেছেন। ফেসবুক লাইভে তিনি অভিষেককে ‘লড়াকু নেতা’ আখ্যা দিয়ে সাফ জানিয়েছেন, অভিষেকের পরিবারকেও হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। তিনি বলেন, “অভিষেককে দায়ী করে যারা দল ছাড়ছেন, তারা আসলে অজুহাত খুঁজছেন। ও আজও বাঘের মতো লড়াই করছে।”

মমতার এই ‘বাঘ’ মন্তব্যের পাল্টা আক্রমণ শানাতে দেরি করেননি পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বিদ্রূপের সুরে বলেন, “যাঁরা দল ছেড়ে যাচ্ছেন, তাঁরা সবাই বেইমান নন। এত কিছুর পরও যদি অভিষেককে বাঘ বলা হয়, তবে বাকিদের কী বলা হবে? বেড়াল? তাহলে পরিষ্কার, সেই বাঘের অত্যাচারেই বেড়ালরা দল ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে।” পার্থর এই ‘বাঘ-বেড়াল’ তত্ত্ব এখন রাজ্য রাজনীতির প্রধান চর্চার বিষয়।

তৃণমূলের পতন কি নিশ্চিত?
পার্থর দাবি, যে দিন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেককে দলের রাশ তুলে দিয়েছেন, সেই দিন থেকেই তৃণমূলের পতন শুরু হয়েছে। সাংগঠনিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন, নেতৃত্বে ভারসাম্যহীনতা এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে প্রশ্রয় দেওয়া—এই ত্রয়ী কারণেই তৃণমূল আজ কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন। তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য পার্থর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই বিদ্রোহ দলের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। একসময় যিনি দলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ ছিলেন, সেই পার্থর এমন মন্তব্যের পর তৃণমূলের অন্দরের অস্থিরতা কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।