মৃত্যুর মিছিল পূর্ব রেলে! শিয়ালদহ থেকে মালদহ—তথ্য জানলে শিউরে উঠবেন

মুর্শিদাবাদে ফের এক মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্য। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে রেল কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট গেটম্যান ও সুপারভাইজারকে সাসপেন্ড করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গেটম্যানের চরম গাফিলতি ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনার পরেই গেটম্যান সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু উত্তেজিত জনতা তাঁকে ধরে ফেলে। ঘটনার ভয়াবহতা বিচার করে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রেল।
পূর্ব রেলের বিভিন্ন শাখায় রেললাইন পারাপার করতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনা যেন এক নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। পূর্ব রেলের চারটি প্রধান ডিভিশন—হাওড়া, শিয়ালদহ, মালদহ এবং আসানসোলের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান রীতিমতো উদ্বেগজনক।
২০২৫ সালের ভয়াবহ খতিয়ান:
পূর্ব রেলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শিয়ালদহ ডিভিশনে রেললাইন পারাপারের সময় ১,১০৮টি দুর্ঘটনা ঘটে, যাতে ৯৩৩ জনের মৃত্যু হয় এবং ১৭৫ জন আহত হন। একইভাবে হাওড়া ডিভিশনে ৭৪৫টি ঘটনায় ৬২০ জনের মৃত্যু ও ১২৮ জন আহত হয়েছেন। আসানসোল ডিভিশনে ৩১৮টি দুর্ঘটনায় ২৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মালদহ ডিভিশনে ২২৩টি ঘটনায় ২০৭ জনের মৃত্যু ও ১৬ জন আহত হয়েছেন।
২০২৬-এর পরিস্থিতি (জুন পর্যন্ত):
নতুন বছরের প্রথমার্ধেই পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। শিয়ালদহ ডিভিশনে জুন মাস পর্যন্ত ৫২৯টি ঘটনায় ৪৬৩ জনের মৃত্যু ও ৬৬ জন আহত হয়েছেন। হাওড়া ডিভিশনে ৩৪৮টি ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩০৪ জন। আসানসোল ডিভিশনে ১৬৩টি দুর্ঘটনায় ১৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মালদহ ডিভিশনে ১০৪টি ঘটনায় ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রেললাইনের ওপর দিয়ে বিপজ্জনকভাবে পারাপার করা এবং গেটম্যানদের দায়িত্বে অবহেলা—এই দুইয়ের সমন্বয়েই প্রতিদিন অসংখ্য প্রাণ ঝরে পড়ছে। সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাব যেমন রয়েছে, তেমনই রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়ছে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা। এই পরিসংখ্যান কেবল সংখ্যার হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়, এটি হাজারো পরিবারের দীর্ঘশ্বাস ও শোকের প্রতীক। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি এবং সচেতনতা বৃদ্ধিই এখন একমাত্র পথ।