জাহাজে আর নয় ভারতীয় নাবিক! হরমুজ সংঘাতের জেরে কড়া নির্দেশ ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিং-এর

হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে শুরু হওয়া তীব্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে বড়সড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। জাহাজ মালিক, জাহাজ ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী সংস্থাগুলিকে কড়া নির্দেশ জারি করেছে নৌ-পরিবহণ অধিদপ্তর (Directorate General of Shipping)। সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী কোনো জাহাজে ভারতীয় নাবিকদের আর নিয়োগ করা যাবে না।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতি এবং গত তিন দিনে জাহাজের ওপর হওয়া পরপর হামলায় দুজন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুতে গোটা দেশজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। এর আগেও একই এলাকায় বেশ কয়েকজন নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। নৌ-পরিবহণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই হামলাগুলি সংঘাতপূর্ণ এলাকায় চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। সেই কারণেই নাবিকদের সুরক্ষার স্বার্থে এই বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অধিদপ্তরের নির্দেশিকায় জাহাজের ক্যাপ্টেনদের পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালী এবং এর সংলগ্ন জলসীমার নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে সবসময় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে, তাই জাহাজ-চলাচল সংক্রান্ত সমস্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত সতর্কবার্তা এবং তথ্যের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার নয়াদিল্লি ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। ‘ফরওয়ার্ড সিমেনস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া’-র সাধারণ সম্পাদক মনোজ যাদব জানিয়েছেন, বর্তমানে ১৫ হাজারেরও বেশি ভারতীয় নাবিক হরমুজ প্রণালীর পশ্চিম প্রান্তে আটকা পড়ে রয়েছেন। তাঁদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইতিমধ্যে সরকারি ও বেসরকারি স্তরে প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ভারত বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম নাবিক সরবরাহকারী দেশ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজে তিন লক্ষেরও বেশি ভারতীয় নাবিক কর্মরত রয়েছেন। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের পথ হওয়ার কারণে, সেখানে সংঘাতের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। নাবিকদের প্রাণ বাঁচানো এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন ভারত সরকারের প্রধান লক্ষ্য। পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সরকার কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট মহল।