আবার মাথাচাড়া দিচ্ছে কোভিড! মাস্ক কি এখন বাধ্যতামূলক? কি বলছেন চিকিৎসকরা?

দেশে ফের নতুন করে কোভিড সংক্রমণের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই উদ্বেগের পারদ চড়ছে। ভাইরাসের দাপটে ইতিমধ্যে ২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, সাধারণ মানুষ কি তবে এখন থেকেই মাস্ক পরা শুরু করবেন? এই বিষয়ে খোদ শহরের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা দিলেন গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ।

চিকিৎসকদের পরামর্শ:

  • ডা: অরিন্দম বিশ্বাস (মেডিসিন বিশেষজ্ঞ): “আবহাওয়া পরিবর্তনের জেরে এমনিতেই ভাইরাল সংক্রমণ বাড়ছে। সবক্ষেত্রে মাস্ক বাধ্যতামূলক না হলেও, বয়স্কদের ক্ষেত্রে মাস্ক পরা এখন থেকেই শুরু করা ভালো।”

  • ডা: আশিস মিত্র (ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ): “যাদের ইমিউনিটি কম বা যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাঁদের সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি। মাস্ক পরা কেবল কোভিড নয়, অন্যান্য ভাইরাস থেকেও সুরক্ষা দেয়।”

  • ডা: উৎসব দাস (চিকিৎসক): “মাস্ক কেবল ভাইরাস নয়, দূষণ থেকেও ফুসফুসকে সুরক্ষিত রাখে। তাই ভিড় বা জনবহুল এলাকায় বেরোলে মাস্ক পরে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।”

মাস্ক কেন প্রয়োজন? চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, করোনাভাইরাস ড্রপলেটের মাধ্যমে একজনের থেকে অন্যের শরীরে ছড়ায়। হাঁচি বা কাশির সময় নির্গত তরল বিন্দু থেকে ভাইরাস সংক্রমণ ঘটে। মাস্ক পরলে এই ড্রপলেটের মাধ্যমে সংক্রমণের পথ বন্ধ হয়ে যায়, যা অনেকাংশেই কোভিড-এর ঝুঁকি কমায়।

কোন মাস্ক সবচেয়ে উপযোগী? চিকিৎসকদের মতে, সুরক্ষার নিরিখে N95 মাস্ক সবচেয়ে কার্যকর। যদি তা না পাওয়া যায়, তবে সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। সাধারণ কাপড়ের মাস্ক তুলনামূলক কম সুরক্ষা দেয়।

সাবধানতা ও লক্ষণ: কোভিড-এর প্রকোপ বাড়ার এই সময়ে জ্বর, সর্দি, কাশি ও হাঁচির মতো উপসর্গগুলিকে উপেক্ষা করবেন না। যদি শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দেয়, তবে বাড়িতে বসে না থেকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং প্রয়োজনে কোভিড টেস্ট করিয়ে নিতে হবে।

বিশেষ সতর্কবার্তা: মনে রাখবেন, ওষুধ বা চিকিৎসার যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।