বর্ষায় পাহাড়ে বিপদের ভয়? হিমাচলের এই ছোট্ট গ্রামটি আপনার জন্য তৈরি করেছে স্বর্গীয় এক ঠিকানা!

বর্ষাকাল বললেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে পাহাড়ি রাস্তার ধস, ভারী বৃষ্টি আর যানজটের বিভীষিকাময় ছবি। এই সময় ভ্রমণপিপাসুরা পাহাড় থেকে দূরত্ব বজায় রেখেই চলেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, ভারতের এমন কিছু পাহাড়ি এলাকা রয়েছে যেখানে বর্ষা মানেই নতুন প্রাণের স্পন্দন, যেখানে প্রকৃতির রূপ লাবণ্য অন্য সব ঋতুকে হার মানায়? তেমনই এক লুকানো রত্ন হলো হিমাচল প্রদেশের কাংড়া জেলার ‘কোহালা খাস’ গ্রাম। পাহাড়ের কোলে সাজানো এই গ্রামটি বর্তমানে পর্যটকদের কাছে এক নতুন বিস্ময় হয়ে উঠেছে।
কাংড়া জেলার এই গ্রামটি বর্ষায় হয়ে ওঠে এক মায়াবী জগত। মেঘে ঢাকা পাহাড়, চারিদিকে ছড়িয়ে থাকা অঢেল সবুজ আর ঝিরঝিরে বৃষ্টির শব্দ—সব মিলিয়ে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এটি এক স্বর্গরাজ্য। যারা শহরের ধুলোবালি ও যান্ত্রিক জীবন থেকে দূরে প্রকৃতির কাছাকাছি কিছু সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য কোহালা খাস হতে পারে সেরা গন্তব্য।
কোহালা খাস গ্রামে এক্সপ্লোর করার মতো অনেক কিছু রয়েছে। প্রথমত, এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্য। বর্ষার সতেজ বাতাসে পাহাড়ের গায়ে যে সবুজের চাদর বিছিয়ে যায়, তা আপনার চোখকে জুড়িয়ে দেবে। গ্রামের চারপাশে বিস্তৃত ধানের খেতের দৃশ্য আর পাহাড়ি জীবনযাত্রা আপনাকে দেবে এক পরম শান্তি। আপনি যদি ফটোগ্রাফির শখ রাখেন, তবে মেঘে ঢাকা পাহাড়ের চূড়া আর বৃষ্টির ভেজা রাস্তা আপনার ক্যামেরায় অসাধারণ মুহূর্ত তৈরি করবে। এছাড়া, স্থানীয় মন্দিরগুলোতে সময় কাটাতে পারেন, যা মানসিক প্রশান্তির দারুণ উৎস। স্থানীয় হোমস্টেগুলোতে থেকে সেখানকার ঐতিহ্যবাহী हिमाচলি খাবারের স্বাদ নেওয়া এই ভ্রমণের অন্যতম পাওনা।
কোহালা খাস পৌঁছানো বেশ সহজ। দিল্লি থেকে সড়কপথে বা বাসে কাংড়া হয়ে সহজেই এখানে পৌঁছানো যায়। যারা ট্রেন ভ্রমণ পছন্দ করেন, তাদের জন্য নিকটতম রেলস্টেশন হলো পাঠানকোট। এরপর সেখান থেকে বাস বা ট্যাক্সিতে করে কোহালা খাস পৌঁছাতে পারেন। এছাড়া আকাশপথে যেতে চাইলে নিকটতম বিমানবন্দর গগ্গল (কাংড়া)।
তবে বর্ষাকালে পাহাড়ে ভ্রমণের সময় কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। আবহাওয়া ও রাস্তার অবস্থা সম্পর্কে আগে থেকেই জেনে নিন। সাথে অবশ্যই রেইনকোট, ছাতা এবং গ্রিপওয়ালা জুতো রাখুন। পাহাড়ি রাস্তায় হাঁটার সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন এবং স্থানীয় প্রশাসনের পরামর্শ মেনে চলুন। মনে রাখবেন, পাহাড় আমাদের আনন্দ দেয়, তাই তাদের পরিবেশ রক্ষা করা আমাদেরই দায়িত্ব। বর্ষার এই মরসুমে যদি পাহাড়ে স্বস্তির ছোঁয়া খুঁজতে চান, তবে কোহালা খাস আপনার পরবর্তী গন্তব্য হতেই পারে।