টিউশন থেকে ফেরার পথে নিখোঁজ! রেললাইনের পাশের জলাশয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রের পচাগলা দেহ উদ্ধার

বুনিয়াদপুর পুরসভার বড়াইল মসজিদ পাড়া এলাকায় এক শোকাতুর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দু’দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে এক দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রের পচাগলা দেহ উদ্ধার করল পুলিশ। মৃত কিশোরের নাম আরমান রহমান (১৭)। থিঙ্গুর রেলগেট এলাকার একটি জলাশয় থেকে দেহটি উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বুনিয়াদপুর রেল পুলিশ, বংশীহারি থানার পুলিশ এবং শোকার্ত পরিবারের সদস্যরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বংশীহারি হাইস্কুলের ছাত্র আরমান গত মঙ্গলবার দুপুরে প্রাইভেট টিউশন পড়ার পর তার এক বন্ধুর সঙ্গে থিঙ্গুর রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় ঘুরতে বেরিয়েছিল। পরিবারের দাবি, এরপর তারা রেললাইনের পাশে একটি জলাশয়ে স্নান করতে নামে। আরমানের পরিবারের অভিযোগ, স্নানের সময় আরমান জলে তলিয়ে গেলেও তার বন্ধু তাকে বাঁচানোর কোনো চেষ্টাই করেনি, বরং কোনো কিছু না জানিয়ে সে নির্বিকারভাবে বাড়ি ফিরে আসে। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, আরমান বাড়ি না ফেরায় তারা তার বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিলে তারা কিছুই জানেন না বলে এড়িয়ে যায়। দীর্ঘ দুই দিন হন্যে হয়ে খোঁজার পর বৃহস্পতিবার সকালে জলাশয়ে দেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।
এদিকে, মৃত কিশোরের পরিবারের সদস্যরা আরমানের ওই সহপাঠীর বিরুদ্ধে সরাসরি খুনের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, আরমানকে পরিকল্পিতভাবে জলে চুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত বন্ধু এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। নিজের সাফাই গেয়ে সে বলে, “আমরা দুজনেই জলে ছিলাম। আমি নিজেই তলিয়ে যাচ্ছিলাম, কোনোমতে আল ধরে তীরে উঠে আসি। তারপর আরমানকে দেখতে না পেয়ে আমি দ্রুত লোক ডাকার চেষ্টা করি।”
মৃতের আত্মীয়দের দাবি, মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় আরমান খুব স্বাভাবিক ছিল, এমনকি সে খাবার খেয়ে ফেরার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল। এত দ্রুত এমন পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না তারা। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বংশীহারি থানার পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্টভাবে জানা যাবে বলে পুলিশের ধারণা। তবে ওই বন্ধু আদৌ সত্য বলছে, নাকি এর পেছনে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড লুকিয়ে আছে, তা নিয়ে তদন্তকারী অফিসাররা সবদিক খতিয়ে দেখছেন।