দিদি নম্বর ১ থেকে বিজেপির মুখ! রাজনীতির ময়দানে রচনার ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বাবার ভবিষ্যৎবাণী?

বিনোদন জগতের গ্ল্যামার দুনিয়া ছেড়ে এখন তিনি পুরোদস্তুর রাজনীতিক। ‘দিদি নম্বর ১’-এর মঞ্চ থেকে সরে আসার পর রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক রূপান্তর এখন টলিপাড়ার সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। বুধবার চুঁচুড়ার বিধায়কের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি যেভাবে বিদ্রোহী তৃণমূলের সুরে কথা বলেছেন এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন, তা রাজনৈতিক মহলে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা মোদিজি, অমিত শাহজি ও শুভেন্দু দার সাপোর্টার। চুঁচুড়ায় খুব ভালো বিধায়ক পেয়েছি।’’ রচনার এই চাঁচাছোলা রাজনৈতিক অবস্থান তাঁকে নিয়ে বিতর্ক ও কৌতূহল দুই-ই বাড়িয়ে দিয়েছে।

রচনার জীবন কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং সাফল্যের এক অনন্য মাইলফলক। বাংলা সিনেমার গণ্ডি পেরিয়ে বলিউডে পা রাখা এবং স্বয়ং অমিতাভ বচ্চনের বিপরীতে ‘সূর্যবংশম’ ছবিতে অভিনয়—রচনার কেরিয়ার গ্রাফ বরাবরই ঈর্ষণীয়। তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাঁর বাবার অমোঘ প্রভাব। রচনা বারবার স্বীকার করেছেন, বাবার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর। তাঁর আয়ের বিনিয়োগ, সঞ্চয় থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিতেন তাঁর বাবা রবীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। বাবার প্রয়াণের পর রচনা নিজেকে দিশাহীন মনে করতেন।

তবে রচনার জীবনে বাবার সবচেয়ে বড় অবদান হলো তাঁর জীবনের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে করা একটি অমোঘ ভবিষ্যদ্বাণী। রচনা যখন তাঁর কর্মজীবনের মধ্যগগনে, ‘দিদি নম্বর ১’-এর মাধ্যমে ঘরে ঘরে জনপ্রিয়, তখন এক বিখ্যাত সাংবাদিক তাঁর আত্মজীবনী লেখার প্রস্তাব দেন। সেই সময় বলিউড ও টলিউডের সাফল্য এবং ব্যক্তিগত জীবনে সন্তানসহ সব দিক থেকে রচনা ছিলেন পরিপূর্ণ। আত্মজীবনী লেখার জন্য সেটি ছিল আদর্শ সময়। কিন্তু বাবা রবীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এতে বাধা দেন। তিনি বলেছিলেন, আত্মজীবনী লেখার সময় এখনও আসেনি, আরও ২-৩ বছর অপেক্ষা করা উচিত। বাবার সেই কথা অক্ষরে অক্ষরে মিলে যায়। ঠিক সেই সময়ের পরেই রচনা রাজনীতিতে পা রাখেন এবং তাঁর জীবনের এক নতুন ও নাটকীয় অধ্যায় শুরু হয়। সেই সময় যদি আত্মজীবনী লেখা হতো, তবে তা অসম্পূর্ণই থেকে যেত।

২০২১ সালের ১৪ নভেম্বর ৮৪ বছর বয়সে প্রয়াত হন রচনার বাবা। তিনি মেয়ের সাংসদ হওয়া দেখে যেতে পারেননি, তবে কন্যার প্রতিটি সাফল্যের ওপর তাঁর অগাধ বিশ্বাস ছিল। আজ রাজনীতির কঠিন ময়দানে দাঁড়িয়ে রচনা যখন নতুন পথ চলছেন, তখন বাবার সেই দূরদর্শিতা তাঁর জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আজও এক ধ্রুবতারা হয়ে মিশে আছে।