‘কলঙ্কিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা’র স্বপ্ন দেখছে বিজেপি! সংসদে ঐতিহাসিক বিলের বিরোধিতায় একাট্টা কংগ্রেস

সংসদের আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনে এক তুমুল রাজনৈতিক লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। লোকসভায় সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল (Delimitation Bill) পেশ করা নিয়ে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি পথে নামার ঘোষণা করেছে কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেন, বিজেপি অত্যন্ত চতুরতার সাথে অন্যায্য উপায়ে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আদায়ের চেষ্টা করছে। কংগ্রেসের দাবি, সরকার রাজনৈতিক ফায়দা লুটতেই এই বিল নিয়ে আসছে।
কংগ্রেস সংসদীয় দলের বৈঠকে এই বিলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। জয়রাম রমেশ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইন্ডিয়া ব্লক একযোগে এই বিলের বিরোধিতা করবে। তবে দলের অবস্থান কিছুটা নমনীয় করে তিনি জানান, যদি নারীদের জন্য বর্তমান প্রস্তাবিত সংরক্ষণের এক-তৃতীয়াংশ কোটা কার্যকর করা হয়, তবেই তারা এই বিলটি সমর্থন করার কথা বিবেচনা করতে পারে। কংগ্রেস বর্তমানে অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে সংসদ অচল হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
জয়রাম রমেশ বিজেপির বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “লোকসভায় নানাবিধ অন্তর্ঘাত ও চাপের রাজনীতি সত্ত্বেও বিজেপির কাছে এখনও প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। বিজেপির জন্য এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন হবে একটি ‘কলঙ্কিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা’।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, দেশবিরোধী কোনো চক্রান্তকে কংগ্রেস মেনে নেবে না।
সংসদের অধিবেশনে কংগ্রেস শুধুমাত্র সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল নয়, বরং একাধিক জনস্বার্থবিরোধী ইস্যু নিয়ে সরকারকে কোণঠাসা করতে চলেছে। জয়রাম রমেশ জানান, কংগ্রেস ইন্ডিয়া ব্লকের শরিক দলগুলোর সাথে যৌথভাবে তহবিল সংগ্রহের কেলেঙ্কারি, সর্বভারতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, ই-২০ ইথানল কেলেঙ্কারি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত বিতর্কিত চুক্তি ও পররাষ্ট্রনীতির মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার দাবি তুলবে।
ইতিমধ্যেই এই বিলকে কেন্দ্র করে শরিকি মতবিরোধ নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। বুধবার এনসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে জানিয়েছিলেন, যদি ৫০ শতাংশ আসন বৃদ্ধির বিষয়টি কার্যকর করা হয়, তবেই তার দল এই বিলকে সমর্থন করবে। যদিও গতকাল সন্ধ্যায় সুপ্রিয়া সুলে অন্য একটি প্রতিবেদনে এই দাবি অস্বীকার করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে বিজেপির এই প্রস্তাব কেবল প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে আগামী দিনের নির্বাচনী মানচিত্র পরিবর্তনের ছক। কংগ্রেসের দাবি, এই বিলের আড়ালে বিজেপির আসল লক্ষ্য হলো ক্ষমতা কুক্ষিগত করা। এখন দেখার বিষয়, সংসদের অধিবেশনে সরকার এই বিল নিয়ে অনড় থাকে, নাকি বিরোধীদের চাপে পিছু হটে। বর্ষাকালীন অধিবেশন যে অত্যন্ত উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।