৮ দিনের হেফাজতে তৃণমূল নেতা! পুলিশের সামনেই লাড্ডু বিতরণ, মাথাভাঙ্গায় বিজেপির বিজয় মিছিল

মাথাভাঙ্গা শহরে রাজনৈতিক অস্থিরতার নতুন অধ্যায়। শাসকদলের মাইনরিটি সেলের জেলা সাধারণ সম্পাদক উজির মিয়াঁ গ্রেফতার হওয়ার পরই কার্যত উৎসবে মেতে উঠল বিজেপি। মঙ্গলবার গভীর রাতে মাথাভাঙ্গা থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন বিতর্কিত এই তৃণমূল নেতা। গ্রেফতারির খবর ছড়াতেই এলাকায় উল্লাসের ছবি দেখা যায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন উজির মিয়াঁ। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জমি দখল, ভাঙচুর এবং বিরোধী কর্মীদের ওপর হামলার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর অবশেষে মঙ্গলবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। উজির মিয়াঁর গ্রেফতারের খবর পৌঁছাতেই রাতারাতি মাথাভাঙ্গা থানার সামনে লাড্ডু বিতরণ করে উল্লাসে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মীরা।
বুধবার সকালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ব্যান্ড পার্টি নিয়ে শহরের প্রধান রাস্তাগুলোতে উজির মিয়াঁর কুশপুতুল নিয়ে শোভাযাত্রা করে বিজেপি। মিছিলটি মাথাভাঙ্গা পোস্ট অফিস মোড়ে পৌঁছালে সেখানে কুশপুতুল দাহ করা হয়। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, উজির মিয়াঁর গ্রেফতারি মাথাভাঙ্গায় সন্ত্রাস ও জমি দখলের রাজনীতির পরাজয়। বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য শেখর রায় স্পষ্ট জানান, “উজির মিয়াঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। প্রয়োজনে তাঁর অবৈধ সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখার জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করানো হোক।”
এদিকে, বুধবার উজির মিয়াঁকে মাথাভাঙ্গা আদালতে তোলা হয়। আদালত চত্বরে তাঁকে দেখার জন্য ভিড় জমান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে না চলে যায়, তার জন্য আদালত চত্বরসহ সংলগ্ন এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। অভিযুক্তকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের তীব্র স্লোগান দিতে দেখা যায়। আদালত শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে ৮ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
অন্যদিকে, ৪ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সাধারণ সম্পাদক মহাদেব বর্মনের দাবি, যে পুলিশ আধিকারিকরা এই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তাঁদের বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। উজির মিয়াঁর গ্রেফতারিতে স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। অভিযুক্ত নেতা ৮ দিনের পুলিশি হেফাজতে যাওয়ায় তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে কৌতূহলী রাজনৈতিক মহলের একাংশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্ত স্বচ্ছভাবে চলছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গোটা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি জারি রয়েছে।