মমতার হাত ছাড়লেন মদন মিত্র! সব পদ থেকে ইস্তফা, ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিতেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

বাংলার রাজনীতির আকাশে এখন সবচেয়ে বড় চমক—মদন মিত্র। দীর্ঘদিনের তৃণমূলের অন্দরে থাকা, ‘কালারফুল’ নেতা বলে পরিচিত মদন মিত্র অবশেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়লেন। তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর এই সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে এক প্রবল ভূমিকম্পের সৃষ্টি করেছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন নতুন শিবিরে তাঁর যোগদান ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।

এই দলবদলকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা মুনির নানা মত। দলত্যাগের পরপরই মদন মিত্রের এই ‘নতুন ইনিংস’ নিয়ে মুখ খুলেছেন তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতা। ঋজু দত্ত এই ইস্যুতে অত্যন্ত বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি সরাসরি মদনের এই সিদ্ধান্তকে দলের জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন। এদিকে, তৃণমূলের অন্য এক শক্তিশালী মুখ কল্যাণ ব্যানার্জি ঋতব্রতর শিবিরে মদনের যোগদানকে কটাক্ষ করে রীতিমতো তোপ দেগেছেন। তাঁর কথায়, দলের আদর্শ বিসর্জন দিয়ে ক্ষমতার লোভে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, মহুয়া মৈত্র এই ইস্যুতে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “কালীঘাট তৃণমূল বলে বাস্তবে কিছু নেই, যা আছে তা হলো সংগঠনের নিয়ম।” মদন-ঋতব্রত ইস্যুকে সামনে রেখে দলের ভেতরে চলা অন্তর্কলহ যেন ফের প্রকাশ্যে চলে এল। কুণাল ঘোষও এই দলবদলের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন, দলের ভেতরে চলা ক্রমবর্ধমান অস্বস্তি এবং নেতৃত্বের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হওয়ার কারণেই মদন মিত্র এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেওয়ার খবর ছড়াতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে চর্চা। বিরোধীরা এই সুযোগকে হাতছাড়া করতে নারাজ। সুকান্ত মজুমদার ইতিমধ্যেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতি যা, তাতে ভবিষ্যতে দলটিতে আর কেউ থাকবে না। মদন মিত্রের এই প্রস্থানকে তিনি তৃণমূলের পতন হিসেবেই দেখছেন। এমনকি, মদন মিত্রের এই নতুন যাত্রার খবর শুনে অধীর চৌধুরীও নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে কার্পণ্য করেননি। সব মিলিয়ে, ঋতব্রতর পাশে দাঁড়িয়ে মদন মিত্র যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন, তা আগামী দিনে তৃণমূলের অন্দরে কতটা বড় ভাঙন ধরাবে, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।

এদিকে, রচণা ব্যানার্জির মতো তারকা সাংসদদের সাম্প্রতিক মন্তব্য—”আমি মোদীজি-অমিতজি আর শুভেন্দুদার সাপোর্টার”—মদন মিত্রের প্রস্থানের ঠিক আগেই যেভাবে তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়িয়েছে, তা থেকে স্পষ্ট যে দল এখন একাধিক ফ্রন্টে চাপের মুখে। আপাতত মদন মিত্রের এই দলবদল রাজনৈতিক সমীকরণকে কতদূর পাল্টে দেয়, সেই দিকেই তাকিয়ে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।