কল্যাণীতে তৃণমূল নেতাকে ফ্ল্যাট থেকে টেনে বের করে গণপিটুনি! আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল এলাকা

নদিয়ার কল্যাণীতে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠল রাজনৈতিক মহল। আর্থিক দুর্নীতি ও সরকারি তহবিলের অপব্যবহারসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে কাঁচরাপাড়া পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান পঙ্কজ সিং-কে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই গ্রেফতারের নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এবং গতরাতের এক ভয়ঙ্কর উত্তেজনার পরিবেশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই কার্যত এলাকাছাড়া ছিলেন তৃণমূলের এই প্রভাবশালী নেতা। এতদিন তাঁর কোনো খোঁজ না পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দানা বেঁধেছিল। অভিযোগ, নির্বাচনের আগে থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত পরিচালনার সময় পর্যন্ত একাধিক আর্থিক দুর্নীতির সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি। প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ থেকে শুরু করে কাটমানি খাওয়ার মতো বিস্তর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
গতরাতে কল্যাণীতে নিজের ফ্ল্যাটে পঙ্কজ সিং ফিরে এসেছেন, এই খবর মুহূর্তের মধ্যে দাবানলের মতো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পাওয়া মাত্রই ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা এবং সাধারণ মানুষ ওই ফ্ল্যাটের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উত্তেজিত জনতা ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ঢুকে পড়ে তৃণমূল প্রধানকে কার্যত টেনে-হিঁচড়ে রাস্তায় বের করে আনে। এরপর প্রকাশ্যেই শুরু হয় গণপিটুনি। তৃণমূল নেতাকে মাটিতে ফেলে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
খবর পেয়ে কল্যাণী থানার পুলিশ তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ গিয়ে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে কোনোমতে ওই নেতাকে উদ্ধার করে। রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বহুবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তাই আজ মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বাধ্য হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা না হলেও, বিরোধী দলগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করার পাশাপাশি তৃণমূলের দুর্নীতির স্বরূপ বলে মন্তব্য করেছে। কল্যাণীতে আপাতত পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা থাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পঙ্কজ সিং-কে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুর্নীতির এই চক্রে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। এখন দেখার বিষয়, আইনত কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রশাসন।