৩ কোটির বিনিময়ে মন্ত্রী হওয়ার অফার! প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নামে প্রতারণার জালে কংগ্রেস বিধায়ক

কেরালা কংগ্রেসের অন্দরে এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণামূলক ফোন কলকে কেন্দ্র করে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কোঝিকোড়ের এলাথুরের বিধায়ক বিদ্যা বালাকৃষ্ণানকে মন্ত্রী করার টোপ দিয়ে ৩ কোটি টাকা দাবির ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে কোঝিকোড় পুলিশের সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ। এই ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৬ই জুলাই। বিধায়ক বিদ্যা বালাকৃষ্ণান একটি অজানা নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে একটি কল পান, যা মূলত নয়াদিল্লি থেকে এসেছিল বলে মনে করা হচ্ছে। ফোনের ওপ্রান্ত থেকে নিজেকে ‘রাজকুমার’ বলে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিটি দাবি করে যে, সে ওয়ানাদের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর কার্যালয়ে কর্মরত। প্রতারকটি বিধায়ককে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে জানায়, কেরালা সরকারে আসন্ন মন্ত্রিসভার রদবদলে তাঁকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করা সম্ভব। তবে সেই সুযোগ পেতে তাঁকে ৩ কোটি টাকা দিতে হবে।
প্রায় ১০ মিনিটের কথোপকথনের সময় প্রতারকটি বিধায়কের বিশ্বাস অর্জনের জন্য অত্যন্ত চতুরতার সাথে কোঝিকোড়ের এক বিশিষ্ট সাংসদের নাম ব্যবহার করে। সে দাবি করে যে, ওই সাংসদই তাকে বিধায়কের ফোন নম্বরটি দিয়েছেন। তবে পুরো কথোপকথনের সময় বিধায়কের আচমকা সন্দেহ দানা বাঁধে। ফোন রাখার পরেই তিনি দ্রুত ওই সাংসদের সাথে যোগাযোগ করেন, যার নাম ব্যবহার করেছিল প্রতারক। সাংসদ জানান, সম্প্রতি কংগ্রেস সদর দপ্তর থেকে ফোন করার নাম করে কেউ তাঁর কাছে জেলার কয়েকজন বিধায়কের ফোন নম্বর চেয়েছিল। এতেই নিশ্চিত হয়ে যায় যে এটি একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণা।
এরপরই বিধায়ক বিদ্যা বালাকৃষ্ণান ও ওই সাংসদ অবিলম্বে কংগ্রেস পার্টির সদর দপ্তর এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সচিবালয় থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে, এমন কোনো কল বা কোনো ধরণের তথ্য আদান-প্রদান করা হয়নি। এরপরই গত ১১ জুলাই বিধায়ক সাইবার সেলে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, ভুয়া ফোনটি নয়াদিল্লি থেকে করা হয়েছিল। কিন্তু ফোনকারী ‘রাজকুমার’-এর আসল পরিচয় এখনো অজানা। সাইবার পুলিশ এই জালিয়াতির পেছনে বড় কোনো চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। বিধায়কের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও এই ঘটনার রাজনৈতিক অভিঘাত নিয়ে উদ্বিগ্ন কংগ্রেস নেতৃত্ব। কে এই ব্যক্তি, যে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নাম ব্যবহার করে কংগ্রেসের মতো বড় দলের বিধায়ককে জালিয়াতির ফাঁদে ফেলার দুঃসাহস দেখাল? সেই রহস্য উন্মোচনে এখন কোঝিকোড় পুলিশের সাইবার সেলের ওপর তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।