চিরবিদায় স্যানফোর্ডের প্রিয় ‘স্মিটি’র! ৯১ বছর বয়সে প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা হ্যাল উইলিয়ামস

বিনোদন জগতের উজ্জ্বল এক নক্ষত্রের পতন হলো। দীর্ঘ ছয় দশকের বর্ণময় অভিনয় জীবন শেষে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন আমেরিকান টেলিভিশনের অত্যন্ত পরিচিত মুখ, কিংবদন্তি অভিনেতা হ্যাল উইলিয়ামস। ৯১ বছর বয়সে ক্যালিফোর্নিয়ার র‍্যাঞ্চো মিরাজে নিজের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। অভিনেতার প্রয়াণের খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর প্রতিনিধি, তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি।

১৯৩৪ সালে ওহাইওর কলম্বাসে জন্ম নেওয়া উইলিয়ামসের পথচলা ছিল অনুপ্রেরণাদায়ক। অভিনয়ের নেশায় হলিউডে পা রাখার আগে তিনি ডাক বিভাগে এবং কারারক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে বিনোদন জগতে আত্মপ্রকাশ করে তিনি পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয়ের নতুন সংজ্ঞা তৈরি করেন। কোনো জটিলতা ছাড়াই দর্শকদের মন জয় করে নেওয়ার জাদুকরী ক্ষমতা ছিল তাঁর।

উইলিয়ামসের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে মাইলফলক ভূমিকা ছিল এনবিসি-র কালজয়ী সিটকম “স্যানফোর্ড অ্যান্ড সন”-এ অফিসার “স্মিটি” স্মিথের চরিত্র। সহ-অভিনেতা হাওয়ার্ড প্ল্যাটের সঙ্গে তাঁর রসায়ন ছিল অবিস্মরণীয়। পুলিশের পরিভাষাকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজ করে তোলার সেই ‘স্মিটি-হপি’ জুটির হাস্যরস আজও দর্শকদের স্মৃতিতে অমলিন। মজার ব্যাপার হলো, এই জুটির নিজস্ব অনুবাদ কৌশলটি একটি মহড়ার সময় দুর্ঘটনাবশত তৈরি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে সিরিজের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

উইলিয়ামসের আরেকটি স্মরণীয় কাজ হলো ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত চলা এনবিসি-র ধারাবাহিক “২২৭”। মার্লা গিবসের বিপরীতে লেস্টার জেনকিন্স চরিত্রে তাঁর অভিনয় কৃষ্ণাঙ্গ পারিবারিক সিটকমের ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। এই শো পাঁচটি সিজন ধরে সফলভাবে সম্প্রচারিত হয় এবং একাধিক পুরস্কার জিতে নেয়। তবে এই সাফল্যও তাঁর কাছে ছিল অনেকটা আকস্মিক। এক ছোট মঞ্চ নাটকের মহড়া থেকে উঠে এসে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পাওয়ার এই যাত্রা সত্যিই অভাবনীয়।

টেলিভিশনের পর্দায় “দ্য ডিক ভ্যান ডাইক শো”, “গানস্মোক”, “গুড টাইমস”, “ম্যাগনাম, পিআই” থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের “পার্কস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন”-এর মতো অসংখ্য অনুষ্ঠানে অতিথি শিল্পী হিসেবে তিনি নিজের স্বাক্ষর রেখেছেন। চলচ্চিত্রেও “প্রাইভেট বেঞ্জামিন” ও “ফ্লাইট”-এর মতো সিনেমায় তাঁর সাবলীল উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। অভিনয় জীবনের বাইরেও তিনি ছিলেন একজন সমাজসচেতন মানুষ। দীর্ঘ সময় ধরে সিকেল সেল অ্যানিমিয়া ফাউন্ডেশনের বার্ষিক টেলিথনের সঞ্চালনা করে তিনি বহু মানুষের সেবা করেছেন।

মৃত্যুকালে তিনি দুই সন্তান, তিন নাতি-নাতনি এবং তিন পুতি-পুতি রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে টেলিভিশনের স্বর্ণযুগের আরও একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। রেড ফক্স এবং ডিমন্ড উইলসনের পর উইলিয়ামসের প্রয়াণ “স্যানফোর্ড অ্যান্ড সন”-এর ভক্তদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। সতীর্থ থেকে শুরু করে ভক্ত—সকলেই তাঁর কৌতুক প্রতিভা ও মানবিক গুণাবলীর কথা স্মরণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাচ্ছেন।