অভিষেকের ‘নিঃশব্দ বিপ্লব’-এর আড়ালে মর্মান্তিক পরিণতি? শিশু কৃতিকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘সেবাশ্রয়’-এর চিকিৎসা ব্যবস্থা ঘিরে আবারও বিস্ফোরক অভিযোগ উঠল। ভুল চিকিৎসার জেরে এক মহিলার পা হারানোর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, এবার তিন বছরের এক শিশুকন্যার ডান হাত কেটে বাদ দেওয়ার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাতগাছিয়া বিধানসভার বিষ্ণুপুর থানা এলাকায়। ঘটনায় সাংসদের বিরুদ্ধে বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত শিশুটির পরিবার।
ঘটনার সূত্রপাত সাতগাছিয়ার বোরাহানপুর গ্রামের বাসিন্দা চিত্তরঞ্জন মান্নার তিন বছরের মেয়ে কৃতি মান্নাকে কেন্দ্র করে। শিশুটি ইভিএম আর্টেরিওভেনাস ম্যালফরমেশন (AVM) নামক এক জটিল শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত। কৃতিকে উপযুক্ত চিকিৎসার জন্য তার বাবা-মা দিল্লির এইমস (AIIMS)-এ নিয়ে গিয়েছিলেন। ঠিক সেই সময় তাঁরা জানতে পারেন, ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগাধীন ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্পে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। এরপর তাঁরা সাংসদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করেন।
পরিবারের দাবি, সাংসদ নিজে শিশুটির চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এমনকি, ‘নিঃশব্দ বিপ্লব’ নামক তৃণমূলের দলীয় বইতে শিশুটির ছবিসহ নাম ছাপিয়ে প্রচারও চালানো হয়। কিন্তু অভিযোগ, এরপরেই শুরু হয় দীর্ঘ এক বছরের টালবাহানা। বারবার তাঁদের ঘুরিয়ে অবশেষে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, সাংসদের পক্ষে আর কোনো সাহায্য করা সম্ভব নয়।
এক বছর সময় নষ্ট হওয়ার পর অসহায় বাবা-মা কোনোক্রমে আবারও শিশুটিকে দিল্লির এইমসে নিয়ে যান। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পাওয়ার ফলে সংক্রমণের তীব্রতা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, কৃতি মান্নার ডান হাতটি কেটে বাদ দেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ খোলা ছিল না।
এই ঘটনার জন্য সরাসরি সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেছেন চিত্তরঞ্জন মান্না। কৃতি মান্নার মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “উনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন যে তিনি পুরো দায়িত্ব নিচ্ছেন। আমরা তাঁর ভরসাতেই ছিলাম। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর যে উনি এভাবে আমাদের এড়িয়ে যাবেন, তা কল্পনাও করতে পারিনি।”
সাংসদের উদ্যোগের আড়ালে থাকা এই চরম গাফিলতি ও অমানবিক আচরণে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। এর আগে একই কেন্দ্রে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে এক মহিলার পা হারানোর ঘটনার পর, এবার ছোট্ট কৃতির অঙ্গহানির ঘটনায় স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং রাজনীতির এই মেলবন্ধন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল। পরিবার এখন বিচারের আশায় প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।