বড় ধাক্কা স্মার্টফোন বাজারে! ২০২৭-এর মধ্যে ভারত ছাড়ছে ওয়ানপ্লাস?

প্রযুক্তি বিশ্বে ফের বড়সড় রদবদল। স্মার্টফোন বাজারে নিজের জায়গা শক্ত করতে না পেরে এবার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে একের পর এক পিছু হটছে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ওয়ানপ্লাস (OnePlus)। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, মূল সংস্থা অপো (Oppo)-এর বড় ধরনের রিস্ট্রাকচারিং বা ব্যবসায়িক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে আমেরিকা এবং ইউরোপে তাদের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ করার পথে ব্র্যান্ডটি। এখানেই শেষ নয়, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের (Bloomberg) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে ভারত সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকেও ধীরে ধীরে নিজেদের গুটিয়ে নিতে চলেছে সংস্থাটি। আপাতত শুধুমাত্র চিনের ঘরোয়া বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে ওয়ানপ্লাস। ওয়ানপ্লাসের এই পতনের নেপথ্যে রয়েছে একাধিক কারণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, তীব্র আর্থিক সংকট, স্মার্টফোন তৈরির উপকরণের দাম বৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে বিক্রির গতি কমে যাওয়াই এর মূল কারণ। বিশেষ করে, সাম্প্রতিক সময়ে মেমোরি চিপ (DRAM ও NAND) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় ওয়ানপ্লাসের মতো ‘বাজেট-ফ্রেন্ডলি’ ফ্ল্যাগশিপ কিলার ব্র্যান্ডের জন্য লাভজনক থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি, মার্কিন বাজারে চিনা ব্র্যান্ডের ওপর কঠোর নজরদারি এবং অ্যাপল (Apple)-এর সাথে আইনি লড়াই ওয়ানপ্লাসের ব্যবসাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। একসময় যে ওয়ানপ্লাস ‘ফ্ল্যাগশিপ কিলার’ হিসেবে টেক-প্রেমীদের মনে জায়গা করে নিয়েছিল, আজ সেই ব্র্যান্ডই টিকে থাকার লড়াইয়ে হার মানছে। সংস্থার পক্ষ থেকে অতীতে এহেন জল্পনাকে উড়িয়ে দেওয়া হলেও, বর্তমান পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। আমেরিকা ও ইউরোপে এই সপ্তাহ থেকেই ব্যবসা গুটিয়ে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। ভারতের ক্ষেত্রে কিছুটা সময় থাকলেও, ২০২৭ সালের মধ্যেই এখানেও ওয়ানপ্লাসের ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, ওয়ানপ্লাসের পাশাপাশি অপোর আর এক সাব-ব্র্যান্ড রিয়েলমি (Realme)-ও চিনের অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে বিদায় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সব মিলিয়ে অপো তাদের ব্যবসায়িক কৌশলে আমূল পরিবর্তন আনছে, যার বলি হচ্ছে ওয়ানপ্লাস। যারা নিয়মিত ওয়ানপ্লাস ফোন ব্যবহার করেন বা নতুন কেনার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় ধাক্কা। সংস্থার এই সিদ্ধান্তের ফলে ভবিষ্যতে সফটওয়্যার আপডেট বা আফটার-সেলস সার্ভিসের কী হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।