বিশ্ববাজারে তেলের আগুন! অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি বাঁচাতে ডিজেল-এটিএফ-এর ওপর ট্যাক্স বাড়াল কেন্দ্র

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার নতুন করে দানা বাঁধা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আঁচ সরাসরি গিয়ে পড়েছে বিশ্ববাজারে। যার জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতার প্রভাব থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই থেকে এক বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল ভারত সরকার। দেশের বাজারে জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং রফতানিকারকদের মাত্রাতিরিক্ত মুনাফার ওপর নিয়ন্ত্রণ আনতে ডিজেল ও এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের (ATF) রফতানির ওপর উইন্ডফল ট্যাক্স বা বিশেষ কর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ডিজেল রফতানির ওপর উইন্ডফল ট্যাক্স প্রতি লিটারে ৮.৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫.৫ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ, এক লাফে প্রতি লিটারে কর বৃদ্ধি করা হয়েছে ৭ টাকা। একইভাবে, এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল বা এটিএফ-এর ওপর এই বিশেষ কর ৭.৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪.৫ টাকা ধার্য করা হয়েছে। এখানেও লিটার প্রতি ৭ টাকা কর বাড়ানো হয়েছে। তবে ডিজেল ও এটিএফ-এর ওপর করের বোঝা বাড়ালেও, সাধারণ মানুষের কিছুটা স্বস্তি দিয়ে পেট্রোল রফতানির ওপর উইন্ডফল ট্যাক্স প্রতি লিটারে ৪ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। বিশ্ববাজারে তেলের দামের অস্থিরতা ও সরবরাহের পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়েই সরকার এই সমন্বয় করেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

কেন এই কঠোর পদক্ষেপ? সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম ক্রমেই বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে রফতানিকারকদের অতিরিক্ত মুনাফার সুযোগ কমিয়ে দেশীয় বাজারে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। জুলাই মাসের গোড়ার দিকে মার্কিন-ইরান সংঘাত কিছুটা স্তিমিত থাকার সময় সরকার পেট্রোলের ওপর কর বাড়িয়েছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ডিজেল ও এটিএফ-এর রফতানি নিয়ন্ত্রণ করা অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ভারতীয় অর্থনীতির ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ী মহল।