সোনা-রুপোর দামে বড় পতন! বিনিয়োগকারীরা কি লোকসানের মুখে? জেনে নিন বাজারের নতুন পরিস্থিতি

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মার্কিন-ইরান উত্তেজনার আঁচ এসে পৌঁছাল মূল্যবান ধাতুর বাজারে। বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধির পাশাপাশি মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’-এর সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার সকালে বড়সড় পতনের সাক্ষী থাকল সোনা ও রুপোর বাজার। মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) মূল্যবান ধাতুর এই দরপতন বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে এমসিএক্সে আগস্ট ডেলিভারির সোনা প্রতি ১০ গ্রামে ০.৩৯ শতাংশ দর হারিয়ে ১,৪১,৩০১ টাকায় নেমে আসে। একই সঙ্গে রুপোর দামেও পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। সেপ্টেম্বর ডেলিভারির রুপো প্রতি কেজিতে ০.৪৪ শতাংশ কমে ২,১৯,৬৫০ টাকায় লেনদেন শুরু করে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত ভূ-রাজনৈতিক সংকটের সময় সোনাকে ‘নিরাপদ বিনিয়োগ’ (Safe Haven) হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন। সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ সোনা থেকে পুঁজি তুলে ডলার বা সুদ-ভিত্তিক সম্পদে বিনিয়োগ করছেন। এর ফলে স্বল্পমেয়াদে সোনার দামে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের দুই শক্তিশালী রাষ্ট্র, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের ফলে অপরিশোধিত তেলের বাজারেও চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বাড়লে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির (Inflation) প্রকোপ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন। এই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফেডারেল রিজার্ভ যদি ফের সুদের হার বাড়ায়, তবে তার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে মূল্যবান ধাতুর বাজারে। শিল্পক্ষেত্রে রুপোর ব্যাপক ব্যবহারের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির ওঠানামার সাথে রুপোর দামের গভীর সম্পর্ক থাকে, যা বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির চাপে অস্থির হয়ে উঠেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীদের এখন অতি সতর্ক হওয়ার সময়। সোনা ও রুপোর পরবর্তী গতিপথ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে আগামী কয়েকদিনের আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক তথ্য এবং ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, বর্তমান বাজারে অস্থিরতা আরও কিছুদিন বজায় থাকতে পারে। তাই হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে অর্থনৈতিক সূচকগুলোর দিকে নজর রাখা জরুরি। এই মুহূর্তে মূল্যবান ধাতুর বাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক বেশি, তাই যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া বড় বিনিয়োগ থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। বাজারের এই টালমাটাল অবস্থায় সোনা ও রুপো কতটা স্থিতিশীল হতে পারবে, তা নিয়ে এখন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।