রথের রশিতে টান দেওয়ার আগেই শোকের ছায়া, নন্দকুমারে বাস-লরি সংঘর্ষে মৃত বাসের মালিকসহ ৪

রথযাত্রার সকালের পবিত্র মুহূর্তটি মুহূর্তের মধ্যে বিভীষিকাময় হয়ে উঠল পূর্ব মেদিনীপুরের ১১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে। বৃহস্পতিবার সকালে নন্দকুমারের হেঁড়িয়া এলাকায় একটি দাঁড়িয়ে থাকা বাসে লরির সজোরে ধাক্কায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃতদের মধ্যে বাসের মালিক, চালক এবং দুই হেল্পার রয়েছেন বলে খবর। উৎসবের দিনে এই প্রাণহানির ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সকালে। কলকাতা থেকে দিঘাগামী একটি যাত্রিবাহী বাস নন্দকুমারের হেঁড়িয়া এলাকায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছিল। বাসটিতে থাকা যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে দেওয়ার পর চালক ও কর্মীরা বাসটি মেরামতির কাজ করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটে বিপত্তি। পিছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা দিঘাগামী একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটির পিছনে প্রচণ্ড বেগে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ঘটনাস্থলেই বাসের কর্মীরা গুরুতরভাবে আহত হন। বিকট আওয়াজ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং উদ্ধারকাজে হাত লাগান। খবর দেওয়া হয় খেজুরি থানায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে তাম্রলিপ্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃতদের পরিচয় পাওয়া গেছে—তপন দাস (৪৪), শিবব্রত পট্টনায়ক (৫৯), অশোক মাইতি এবং শুভদীপ মণ্ডল। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনায় অন্তত দু’জন যাত্রী গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর থেকেই ঘাতক লরিটির চালক পলাতক। খেজুরি থানার পুলিশ ঘাতক লরিটিকে আটক করেছে। তবে চালকের খোঁজে ইতিমধ্যে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনার জেরে সকালের দিকে জাতীয় সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল, তবে পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক। রথযাত্রার সকালে আনন্দের বদলে এমন মৃত্যু সংবাদে স্তব্ধ এলাকা। পরিবারের সদস্যদের বুকফাটা কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার নেপথ্যে চালকের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।