সাদ্দামের সঙ্গে মমতার তুলনা! দল ছাড়ার পরেই বিস্ফোরক মদন মিত্র, নাম না করে তুললেন ‘গান্ধারী’র প্রসঙ্গ

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এখন কার্যত যুদ্ধের আবহ। দীর্ঘদিনের অনুগত মদন মিত্র ‘কালীঘাট তৃণমূল’ ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বুধবার রাতে একটি টিভি চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে কামারহাটির এই বিধায়ক যে ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন, তা রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
সাদ্দাম হুসেনের সঙ্গে তুলনা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের সমালোচনা করতে গিয়ে মদন মিত্র সরাসরি ইরাকের প্রাক্তন শাসক সাদ্দাম হুসেনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। মদন বলেন, “সাদ্দাম হুসেনের মূর্তিও একদিন ফেলে দেওয়া হয়েছিল, ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না।” দলের অন্দরে মমতাকে ‘গান্ধারী’র সঙ্গে তুলনা করে মদনের কটাক্ষ, “অভিষেকের প্রতি অন্ধ মোহের কারণেই আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গান্ধারী হয়ে গিয়েছেন।”
‘লাগেজ-ব্যাগেজ’ মন্তব্যের পাল্টা চ্যালেঞ্জ: ফেসবুক লাইভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলত্যাগীদের ‘লাগেজ-ব্যাগেজ’ বা দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত বলে আক্রমণ করেছিলেন। এরই জবাবে মদন মিত্রের সাফ কথা, “আমার স্ত্রী ও পুত্রকে ইডি তলব করেছে, তাতে আপনার কী? ওটা আমার পরিবার, আপনার পুত্র অভিষেক তো নয়! আমি ২৭ মাস জেলে থেকেও একটা পয়সার দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি পারেন আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ দিন, আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।”
শুভেন্দুকে হুঁশিয়ারি: তৃণমূল থেকে বেরিয়ে বিরোধী শিবিরে নাম লেখানো শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মদন। তাঁর কথায়, “শুভেন্দু যে পথে হাঁটছে, তাতে সে নিজেই ভস্মীভূত হয়ে যাবে। আমি বিশ্বামিত্র গোত্রের ছেলে, এত সহজে হার মানার পাত্র নই।”
কেন দল ছাড়লেন? মদন মিত্রের দাবি, দলের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং দলের দীর্ঘদিনের নেতাদের অবমূল্যায়নই তাঁকে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। দলবদলকে ‘পলায়ন’ বলতে নারাজ মদন। তাঁর স্পষ্ট দাবি, তিনি সম্মানের লড়াইয়ে নেমেছেন এবং তৃণমূলের বর্তমান নেতৃত্বের স্বৈরাচারী মনোভাবের বিরুদ্ধেই এই বিদ্রোহ।
তৃণমূল কংগ্রেসের ভিত যখন নড়বড়ে, ঠিক সেই সময় মদন মিত্রের এই একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য রাজনৈতিক সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।