‘অভিষেকের অহঙ্কারে দম বন্ধ হয়ে আসছিল!’ দল ছাড়ার কারণ ফাঁস করলেন মদন মিত্র

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহল থেকে বিদায় নিয়ে নতুন শিবিরে যোগ দিয়েছেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। আর দল বদলের পরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন তিনি। মদন মিত্রের সরাসরি অভিযোগ, অভিষেকের ‘অহঙ্কার’ আর ‘ব্যবহারের’ কারণেই তৃণমূলের আজকের এই দুর্দিন।

যা বললেন মদন মিত্র: মদন মিত্রের কথায়, “অভিষেকের ব্যবহারে, অহঙ্কারে দম বন্ধ হয়ে আসছিল। দলের বর্ষীয়ান নেতারা পর্যন্ত তার ভয়ে কথা বলার সাহস পেতেন না।” দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি আরও বলেন, “পার্টিটাকে নিয়ে ছ্যাবলামি হয়েছে। রাজনীতি এত সহজ নয়, অথচ সব কিছু খুব সহজে পাওয়া যাবে—এই মানসিকতা দলটাকে শেষ করেছে।”

অভিষেকের বিরুদ্ধে মদন মিত্রের প্রধান অভিযোগসমূহ:

  • নেতৃত্বের অহঙ্কার: দলের বয়স্ক নেতারা অভিষেকের ভয়ে তটস্থ থাকতেন বলে দাবি মদনের।

  • বিলাসবহুল জীবনযাপন: মদনের মতে, অভিষেকের ব্যক্তিগত শখ—যেমন ৪০০ কোটি টাকা খরচ করে প্লেনে চড়া, দলের বিপুল ক্ষতি করেছে। ওই টাকা কর্মীদের জন্য খরচ করলে ভোটের ফলাফল অন্যরকম হতে পারত।

  • অতিরঞ্জিত আত্মবিশ্বাস: মদন মিত্রের দাবি, অভিষেক নিশ্চিত ছিলেন যে তৃণমূল ২৫০ আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরবে, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি তিনি বুঝতে পারেননি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে মন্তব্য: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের নেত্রী হিসেবেই স্বীকার করেন মদন মিত্র। তবে তাঁর আক্ষেপ, “নেত্রী আজও বুঝতে পারছেন না দলের আসল অবস্থা কী। কিন্তু নেতার জন্য বা গুরুর জন্য একটার পর একটা অন্যায় সহ্য করে যাওয়া নৈতিক হতে পারে না।” তিনি দাবি করেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, কালীঘাট ছেড়ে মদন মিত্র এখন ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলে তাঁর এই দলত্যাগ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে করা এই মন্তব্য নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।