নুডলস-পকোড়া বিতর্কে বিদ্ধ সিজেপি! চাপের মুখে পড়ে সোনমের সমর্থনে ১ দিনের গণঅনশনের ডাক

বিগত ১৮ দিন ধরে দিল্লির যন্তরমন্তরে আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন পরিবেশকর্মী ও সমাজসেবী সোনম ওয়াংচুক। দীর্ঘ অনশনের ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন অত্যন্ত সংকটজনক। এই পরিস্থিতিতে এতদিন পাশে থাকলেও সক্রিয় আন্দোলনে না থাকা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) অবশেষে বড় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলো। কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আগামী বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই দেশজুড়ে ১ দিনের গণঅনশনের ডাক দিলেন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে।
বিতর্কের মুখে সিজেপি গত ১৮ দিন ধরে সোনম ওয়াংচুক যখন জল ও অন্ন ত্যাগ করে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে লড়াই করছেন, তখন তাঁর পাশেই মঞ্চে উপস্থিত সিজেপি নেতাদের একাংশকে নুডলস ও পকোড়া খেতে দেখা যায়। সামাজিক মাধ্যমে এই ছবি ছড়িয়ে পড়তেই সিজেপি-র ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। প্রশ্ন ওঠে, অনশনরত সোনমের লড়াইয়ের প্রতি তারা কতটা আন্তরিক। প্রবল জনরোষ ও চাপের মুখেই অবশেষে বুধবার সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে গণঅনশনের কথা ঘোষণা করেন। তিনি বিশেষ করে দেশের ছাত্রসমাজ ও পরীক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদী অনশনে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সরকারের নীরবতা ও বিরোধীদের অবস্থান নিট (NEET) পরীক্ষার জালিয়াতি ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের প্রতি কেন্দ্র সরকার এখনো কোনো সাড়া দেয়নি। দীর্ঘ ১৮ দিন পেরিয়ে গেলেও সরকারের তরফ থেকে কোনো আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বড় কোনো বিরোধী রাজনৈতিক দল সরাসরি আন্দোলনে না নামলেও, কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার কথা ভেবে তাঁকে অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন।
আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন মৌখিকভাবে পাশে থাকলেও সরকারের উদাসীনতা ও দলের সমালোচনা—এই দুইয়ের চাপে পড়ে সিজেপি এখন আন্দোলনে বাড়তি গুরুত্ব দিতে বাধ্য হচ্ছে। ১৬ জুলাইয়ের গণঅনশন কর্মসূচি কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, তা এখন দেখার বিষয়। অন্যদিকে, সোনম ওয়াংচুকের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে দেশজুড়ে।