অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে হঠাৎ ৫০০ কোটির জালিয়াতি! বিস্ফোরক অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

রাজ্যের বর্তমান সরকারের সামাজিক প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ এবং ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো ও রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার একটি ফেসবুক লাইভ থেকে তিনি অভিযোগ করেন যে, এই প্রকল্প রূপায়ণে চরম অনিয়ম ও স্বজনপোষণ চলছে।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে অনিয়মের অভিযোগ ফেসবুক লাইভে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সংবাদমাধ্যমে দেখছি, কারও অ্যাকাউন্টে হঠাৎ ৫০০ কোটি বা ৪০০ কোটি টাকা ঢুকে গিয়েছে! অথচ সাধারণ মানুষ যারা পাওয়ার যোগ্য, তারা এক মাস টাকা পাওয়ার পর আর কিছুই পাচ্ছেন না।” তাঁর আরও দাবি, তৃণমূল সরকারের আমলের জনপ্রিয় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের উপভোক্তা—অর্থাৎ রাজ্যের মা ও বোনেরা—যাঁরা এই সুবিধা পেতেন, তাঁদের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষকে বর্তমান অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্র ও বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন মমতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন তাঁর শাসনকালের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি বর্তমান সরকারের প্রতি তোপ দাগেন। তিনি বলেন, “যখন তৃণমূল ক্ষমতায় ছিল, তখন আমরা প্রায় ১০৫টি সামাজিক প্রকল্প চালু করেছিলাম। আমরা সংগ্রাম করে কাজ করেছি, কিন্তু আজ সাধারণ মানুষের অবস্থা শোচনীয়। কেউ ঠিকমতো ভাত পাচ্ছে না, কারও পাতে ডিম নেই।”
মিড ডে মিল ও হকার উচ্ছেদ নিয়ে উদ্বেগ রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এদিন মিড ডে মিল ও হকার উচ্ছেদ নিয়েও নিজের মতামত প্রকাশ করেন। তাঁর কথায়, “আমরা প্রাইমারি স্কুলে ড্রপআউট রেট জিরো করে দিয়েছিলাম, কারণ মিড ডে মিলের মাধ্যমে শিশুরা পেট ভরে খাওয়ার সুযোগ পেত। আজ সেই ছেলেমেয়েরা ক্ষুধার্ত।” কলকাতায় হকার উচ্ছেদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “হকাররা যারা কিছু করে খেত, তাদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ হয়তো ফাঁকা রাস্তায় হাঁটতে পছন্দ করেন, হাঁটুন না—অনেক রাস্তা আছে। কিন্তু গরীব মানুষের পেটে লাথি মারার অধিকার কারও নেই।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ফেসবুক লাইভ ও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার সংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের দাবিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে এখন তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের কোনো পাল্টা জবাব এখনো দেওয়া হয়নি।