স্টেন্ট বসানো সম্ভব নয়! বাইপাসের পথে প্রবীণ অভিনেতা সুমন্ত মুখোপাধ্যায়, হাসপাতালে বড় আপডেট

প্রবীণ অভিনেতা সুমন্ত মুখোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। মঙ্গলবার চিকিৎসকদের কঠোর নির্দেশ মেনে তাঁর অ্যাঞ্জিওগ্রাফি সম্পন্ন হয়েছিল। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই চিকিৎসকরা বুধবার বড়সড় সিদ্ধান্ত নিলেন। অভিনেতা শুভ্রজিৎ দত্ত দ্য ওয়াল-কে জানিয়েছেন, সুমন্ত মুখোপাধ্যায়ের হার্টের যে পরিস্থিতি, তাতে স্টেন্ট বসানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাঁকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলার জন্য এখন বাইপাস সার্জারির প্রয়োজন রয়েছে।

শুভ্রজিৎ দত্ত এবং সুমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। ছোট থেকে শুভ্রজিৎ তাঁকে ‘মন্টুকাকু’ বলে ডাকেন। প্রিয় মানুষের অসুস্থতার খবর পেয়েই বুধবার সকালে শুভ্রজিৎ তড়িঘড়ি হাসপাতালে ছুটে যান। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন। তবে আপাতত বাইপাস সার্জারি করা সম্ভব হচ্ছে না বলেই জানা গেছে।

চিকিৎসকদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সুমন্তবাবুর শরীরে শর্করার মাত্রা বা সুগার লেভেল স্বাভাবিক নয়। সেই সঙ্গে তাঁর ক্রিয়েটিনিনের মাত্রাও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, সার্জারি করার জন্য শরীরের প্রতিটি প্যারামিটার স্বাভাবিক থাকা আবশ্যক। যতক্ষণ না শরীরের এই উপাদানগুলির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত অস্ত্রোপচারের পথে হাঁটা বড় ঝুঁকির কাজ হবে। সেই কারণে আপাতত তাঁকে হাসপাতালেই চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

সুখবর একটাই, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পরেও অভিনেতার বর্তমান শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি সবার সঙ্গে কথা বলছেন। প্রিয়জনদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার দিকে কড়া নজর রাখছেন তাঁর কন্যা, পরিচালক মধুবন্তী মুখোপাধ্যায়। তিনি নিজে দু’বেলা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং বাবার দ্রুত আরোগ্যের জন্য সমস্তরকম পরামর্শ নিচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, সুমন্তবাবুর শরীরের বিভিন্ন উপাদানের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ওষুধ শুরু হয়েছে। চিকিৎসকরা আশাবাদী, সঠিক চিকিৎসায় দ্রুত শরীরের জটিলতা কাটিয়ে অস্ত্রোপচারের জন্য তাঁকে প্রস্তুত করা সম্ভব হবে। তবে বাইপাস সার্জারির মতো বড় অস্ত্রোপচারের জন্য তাঁকে মানসিকভাবে এবং শারীরিকভবে প্রস্তুত হতে কিছুটা সময় লাগবে। অনুরাগীরা প্রিয় অভিনেতার দ্রুত আরোগ্যের প্রার্থনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা পাঠাচ্ছেন।