মমতা-শিবিরে বড় ভাঙন! ‘কালীঘাট-তৃণমূল’-এর সব পদ ছাড়লেন স্নেহের মদন মিত্র

রাজ্যের শাসকদলে এক ভয়াবহ রাজনৈতিক ভূমিকম্প! মমতার অন্দরমহল থেকে একে একে বিদায় নিচ্ছেন হেভিওয়েট নেতারা। ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পর এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহভাজন মদন মিত্রও শাসকদলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করলেন। ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ বলতে যা পরিচিত, সেই শিবিরের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তিনি এখন দল ও প্রশাসনের অন্দরে এক প্রবল অনিশ্চয়তা ও আলোড়নের সৃষ্টি করেছেন।
মদন মিত্রের এই আচমকা পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষ করে, যখন তিনি তৃণমূলের কোনো দলীয় ফোরামে আলোচনার পথে না হেঁটে সরাসরি দল থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বিধানসভার দিকে পা বাড়িয়েছেন, তখন থেকেই কানাঘুষো শুরু হয়েছে—তিনি কি তবে দলত্যাগের পথে? সটান বিধানসভায় পৌঁছেই তিনি দেখা করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। এই মুহূর্তে দু’জনের মধ্যে চলছে রুদ্ধদ্বার বৈঠক। এই বৈঠকের পরিক্রমা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে, কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনিষ্ঠ অনুগত হিসেবে পরিচিত মদন মিত্রের এই বিদ্রোহ শাসকদলের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফিরহাদ হাকিম বা চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের বিদায়ের পর মদন মিত্রের বেরিয়ে যাওয়া সাধারণ কোনো ঘটনা নয়। এটি স্পষ্টত তৃণমূলের অন্দরে ক্রমবর্ধমান অন্তর্দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ। দীর্ঘদিনের সঙ্গী ও ঘনিষ্ঠদের একের পর এক বিদায়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক সমীকরণ এখন সংকটের মুখে। বিধানসভায় বসে ঋতব্রতর সঙ্গে এই বৈঠক কি কোনো নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সূচনা? নাকি এটি কোনো বৃহত্তর বিদ্রোহের পূর্বাভাস?
মদন মিত্রের অনুগামীরা এই ঘটনায় স্তম্ভিত। দীর্ঘদিন ধরে কামারহাটির রাজনীতি থেকে শুরু করে রাজ্যের তৃণমূল স্তরের সাংগঠনিক কাঠামোয় মদন মিত্রের প্রভাব অপরিসীম। সেই প্রভাবধারী নেতার এমন আচমকা পদত্যাগ আগামী দিনে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তিতে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে। দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি, তবে পরিস্থিতি যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এখন প্রশ্ন উঠছে, তাহলে ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ কি তবে নিজের কর্মীদের মধ্যেই বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে? মদন মিত্রের এই পদক্ষেপের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কোন সমীকরণ তৈরি হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডান হাত হিসেবে পরিচিত নেতাদের একের পর এক বিদায় কি তৃণমূলের পতনের ঘণ্টা? উত্তরের অপেক্ষায় গোটা রাজ্য।