‘মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা মানেই দেশদ্রোহ নয়!’ এনসিপি নেতার জামিনে বড় পর্যবেক্ষণ পুনে আদালতের

সরকারের কাজের সমালোচনা বা মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতা করা মানেই দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা নয়—একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে এই মন্তব্য করল পুনের এক আদালত। এনসিপি (শরদ পাওয়ার) গোষ্ঠীর সোশ্যাল মিডিয়া শাখার মহারাষ্ট্র রাজ্য সভাপতি মহাদেব বালগুডেকে জামিন দেওয়ার সময় অতিরিক্ত দায়রা জজ বিডি কুলকার্নি গণতন্ত্রে বাকস্বাধীনতার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মহাদেব বালগুডের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তিনি নকশালদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নভিসের একটি বিকৃত ছবি পোস্ট করেছেন। এই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫২ ধারা (দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বা দেশদ্রোহ) এবং অন্যান্য ধারায় মামলা দায়ের করে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর মঙ্গলবার আদালত তাঁর জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে।

বিচারপতি কুলকার্নি তাঁর পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশংসা কিংবা সমালোচনা করার। আদালত বলেছে, “অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নথিতে এমন কোনো প্রমাণ নেই যা থেকে প্রমাণিত হয় যে তাঁরা জনগণের মধ্যে উসকানি দিয়েছেন কিংবা দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার ক্ষতি করেছেন। সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প বা তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা জন-আলোচনার একটি সাধারণ অংশ মাত্র।”

আদালত আরও জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ১৫২ ধারার প্রয়োগ এই মামলায় সমীচীন নয়, কারণ এই ধারাটি বিতর্কিত। যেহেতু তদন্ত শেষ হয়েছে এবং পুলিশ ইতিমধ্যেই চার্জশিট দাখিল করেছে, তাই অভিযুক্তকে হেফাজতে রাখার কোনো প্রয়োজন নেই বলে মনে করেছে আদালত। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, যেহেতু বিষয়টি জনস্বার্থ বা সরকারি কাজের পর্যালোচনার সঙ্গে যুক্ত, তাই একে সরাসরি ‘রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ’ হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া যায় না।

অবশেষে ২৫,০০০ টাকার ব্যক্তিগত মুচলেকা ও এক বা দুইজন জামিনদারের শর্তে মহাদেব বালগুডেকে জামিন দেওয়া হয়েছে। তবে জামিনের জন্য আদালত বেশ কিছু কঠোর শর্তও আরোপ করেছে। অভিযুক্তকে অবশ্যই নিজের বর্তমান ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। এছাড়া সাক্ষী বা তথ্য-প্রমাণ বিকৃত করা যাবে না এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি দেশত্যাগ করতে পারবেন না।

আইনজীবীদের মতে, পুনে আদালতের এই রায় বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গণতান্ত্রিক দেশে ভিন্নমত পোষণ করা যে দেশদ্রোহ নয়, এই বার্তাটিই আদালতের রায়ে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। জামিন পাওয়ায় আপাতত কিছুটা স্বস্তিতে এনসিপি শিবির।