সিআইডি-র তলব মেনে আদালতে অভিষেক, ডিজে বিতর্কে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে প্রস্তুত তৃণমূল সাংসদ!

আদালতের কড়া নির্দেশ এবং কঠোর সময়সীমা মাথায় রেখে বুধবার সকাল ১১টা নাগাদ কলকাতার কালীঘাটের বাসভবন থেকে বিধাননগর আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনী প্রচারে ডিজে সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া মামলায় তদন্তের স্বার্থে সিআইডি-র তলবে আজই তাঁকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হয়ে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে হচ্ছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাজিরাকে কেন্দ্র করে বুধবার সকাল থেকেই বিধাননগর মহকুমা আদালত চত্বরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। আদালত চত্বরে সাধারণের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রিত করার পাশাপাশি র্যাফ (RAF) মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সেজন্য পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এর আগে অভিষেকের আইনজীবীর তরফে নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে আদালতে উত্থাপন করা হয়েছিল। বিশেষ করে, অভিষেককে লক্ষ্য করে অতীতে ডিম ছোড়ার মতো অনভিপ্রেত ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটে, তা নিশ্চিত করার জন্য রাজ্যকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।
উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচারের সময় ডিজে সংক্রান্ত একটি মন্তব্যের জেরে রাজ্য পুলিশের তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি অভিষেকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এই মামলার তদন্তের খাতিরেই তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। সিআইডি সূত্রে খবর, গত ৩০ জুন এবং ৮ জুলাই—টানা দুবার নোটিস পাঠানো সত্ত্বেও অভিষেক সেই সময় হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন।
পরপর দুবার হাজিরা এড়ানোর কারণে কলকাতা হাইকোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছিল ডায়মন্ড হারবারের এই সাংসদকে। গত ১০ জুলাই মহামান্য হাইকোর্টের বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলেন, অবিলম্বে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিয়ে তদন্তে সহযোগিতা না করলে তাঁর রক্ষাকবচ বা আইনি সুরক্ষা কবচ প্রত্যাহার করে নেওয়া হতে পারে। আদালতের এই কঠোর সতর্কবার্তার পরই মূলত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হাজিরা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। উল্লেখ্য, আদালতের নির্ধারিত তারিখ ১৮ জুলাই হলেও, তিনি আজই কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আদালতে উপস্থিত হয়েছেন।
এখন বিধাননগর মহকুমা আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সিআইডি আধিকারিকদের এই কণ্ঠস্বর সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি কতটা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষ। তদন্তের প্রয়োজনে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের এই আইনি পর্ব শেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পরবর্তীকালে এই মামলা নিয়ে কী অবস্থান নেন, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে জল্পনা।