জল-স্থলে একই গতি! শত্রু নিধনে ভারতীয় সেনার হাতে আসছে ১১টি বিশেষ হাই-স্পিড রণতরী

গুজরাটের কুখ্যাত ‘স্যার ক্রিক’ সেক্টরে ভারতের সুরক্ষাবলয়কে আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের এই দুর্গম জলাভূমি ও জটিল জলপথ এলাকায় নজরদারি বাড়াতে এবং অনুপ্রবেশ রুখতে ভারতীয় সেনাবাহিনী পেতে চলেছে অত্যাধুনিক হাই-স্পিড উভচর যুদ্ধনৌকা (Amphibious Combat Boats)। জল ও স্থল—উভয় মাধ্যমেই সমান দক্ষ এই রণতরীগুলো যে কোনো জটিল পরিস্থিতিতে দ্রুত সেনা মোতায়েন ও পাল্টা আক্রমণে সক্ষম।

কেন এই বিশেষ উদ্যোগ?
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, স্যার ক্রিকের ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এলাকা ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে এক অত্যন্ত স্পর্শকাতর জলসীমা। দীর্ঘদিন ধরেই এই জলাভূমি এলাকা চোরাচালান, মাদক পাচার এবং অনুপ্রবেশের নিরাপদ করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে সম্প্রতি পাকিস্তান ওই সীমান্তে পরিকাঠামো উন্নয়ন ও ড্রোনের ব্যবহার উদ্বেগজনকভাবে বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাহিনীর গতিশীলতা, তাৎক্ষণিক সাড়া প্রদানের ক্ষমতা এবং নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি নিশ্চিত করতে এই নৌযানগুলো গেম-চেঞ্জার হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছে সেনা নেতৃত্ব।

নৌকার বিশেষ প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য:
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক মোট ১১টি এই ধরনের নৌকার বরাত দিয়েছে। প্রযুক্তিগত দিক থেকে এই নৌযানগুলো আধুনিক সমরকৌশলের নিরিখে অত্যন্ত শক্তিশালী:

জল ও স্থল দুই পথেই গতি: হাইড্রোলিক ড্রাইভ সিস্টেমের সাহায্যে এই নৌকা জলে ৪০ নট গতিতে ছুটতে পারবে, পাশাপাশি ডাঙাতেও ১০-১৫ কিমি বেগে অনায়াসে চলাচল করতে সক্ষম।

অস্ত্র ও সুরক্ষা: এতে থাকবে আধুনিক ব্যালিস্টিক সুরক্ষা, যা শত্রুর গোলাগুলি থেকে সেনাদের সুরক্ষিত রাখবে। এছাড়া থাকবে অত্যাধুনিক রাডার, জিপিএস ও ইনফ্রারেড নাইট ভিশন নজরদারি ব্যবস্থা।

সেনা ও রসদ পরিবহন: এই রণতরীগুলো একবারে ১২ জন সশস্ত্র জওয়ান এবং প্রায় ১,৫৬০ কেজি ওজনের ভারী সরঞ্জাম বহন করতে সক্ষম।

দ্রুত মোতায়েন: আকাশপথে আইএল-৭৬ বা সি-১৭ গ্লোবমাস্টার বিমানের মাধ্যমে এই নৌকাগুলোকে দেশের যে কোনো অপারেশনাল এলাকায় দ্রুত পৌঁছে দেওয়া যাবে।

‘মেক ইন ইন্ডিয়া’য় আত্মনির্ভরতার পথে:
পুরো প্রকল্পটির ক্রয় প্রক্রিয়া ‘বাই ইন্ডিয়ান’ (Buy Indian) ক্যাটাগরিতে সম্পন্ন হচ্ছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, নৌযানগুলোর অন্তত ৬০ শতাংশ যন্ত্রাংশ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হতে হবে। চুক্তি স্বাক্ষরের ২৪ মাসের মধ্যেই এই নৌকাগুলো সেনার হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কেন্দ্র। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রিক সেক্টরের মতো বন্ধুর ভূখণ্ডে নজরদারি বাড়াতে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই উভচর যুদ্ধনৌকাগুলো ভারতীয় সেনার রণকৌশলগত সক্ষমতাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।