সাধারণ পেট্রোল চান? গুনতে হবে বাড়তি টাকা! ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি নিয়ে বড় বার্তা নীতিন গড়করির

ইথানল-মিশ্রিত পেট্রোল (E20) নিয়ে গাড়ির মালিকদের মনে থাকা যাবতীয় সংশয় ও ভয়ের বাতাবরণ দূর করতে আসরে নামলেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও হাইওয়ে মন্ত্রী নীতিন গড়করি। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যারা ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহার করতে আগ্রহী নন, তাঁদের জন্য ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ পেট্রোল ব্যবহারের বিকল্প খোলা রয়েছে। তবে এর জন্য গ্রাহকদের পকেট থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি দাম দিতে হবে। ই২০ জ্বালানি ব্যবহারের ফলে গাড়ির ইঞ্জিনের আয়ু কমে যাচ্ছে বা ক্ষতি হচ্ছে—এই ধরনের দাবিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

ই২০ জ্বালানি নিয়ে সংশয় ও সরকারি ব্যাখ্যা
দেশজুড়ে পেট্রোল পাম্পগুলিতে বর্তমানে ই২০ (২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল) জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে। গড়করি জানান, ভারত ইতিমধ্যেই ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে। এই জ্বালানি ইঞ্জিনের ক্ষতি করে বলে যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তা ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা। মন্ত্রী জানান, ই১০-এর জন্য তৈরি সমস্ত গাড়ি অনায়াসেই ই২০ জ্বালানি ব্যবহারে সক্ষম এবং এ নিয়ে এখন পর্যন্ত একটিও অফিসিয়াল অভিযোগ সরকারের কাছে আসেনি। গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলোও এই বিষয়ে সরকারি নীতির পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে।

সাধারণ মানুষের জন্য বিকল্পের সুযোগ
পেট্রোল পাম্পে ই১০ বা অন্য কোনো মাত্রার ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলের সুযোগ থাকবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন গড়করি। তিনি জানান, বর্তমানে ফ্লেক্স ফুয়েল ভেহিকল (FFV)-এর জন্য ই৮৫ (৮৫ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল) জ্বালানির বিকল্পও বাজারে আসছে। হাফ ডজনেরও বেশি গাড়ি নির্মাতা সংস্থা এই ধরনের গাড়ি বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ই৮৫ জ্বালানির দাম সাধারণ ই২০ জ্বালানির তুলনায় অনেক কম, যা ক্রেতাদের জন্য সাশ্রয়ী হবে।

রাজনৈতিক অপপ্রচারের অভিযোগ
নীতিন গড়করি কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন বিরোধীদের। তাঁর মতে, সরকার ও তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই একটি বিশেষ গোষ্ঠী রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে ভুয়ো তথ্যের প্রচার চালাচ্ছে। মন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, গ্রাহকদের কাছে এখন বিভিন্ন বিকল্প আছে। যাঁরা ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি নিতে চান না, তাঁরা বেশি দাম দিয়ে বিশুদ্ধ পেট্রোল ব্যবহার করতেই পারেন। সরকারের লক্ষ্য হলো জ্বালানি তেলের ওপর আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় ইথানল উৎপাদনে জোর দেওয়া, যা ভারতের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও একটি বড় পদক্ষেপ।