ইতিহাস গড়ল ভারত-ব্রিটেন! আজ থেকেই কার্যকর ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি, রফতানিতে বিশাল ছাড়

ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত এবং ঐতিহাসিক ‘সমন্বিত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি’ (CETA) বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো। এই চুক্তির হাত ধরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বর্তমানে ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলার, যা এই চুক্তির ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে বলে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভারতীয় শিল্পের জন্য বড় সুযোগ
চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভারতের শিল্পমহলে খুশির হাওয়া। এখন থেকে ভারতের বস্ত্র, চামড়াজাত পণ্য, জুতো, রত্ন ও গয়না এবং প্লাস্টিক-সহ বহু পণ্য যুক্তরাজ্যে শূন্য আমদানি শুল্কে রফতানি করা যাবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় পণ্যগুলির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। নতুন চুক্তির আওতায় ভারতের প্রায় ৯৯ শতাংশ পণ্য কোনো বাড়তি শুল্ক ছাড়াই ব্রিটিশ বাজারে প্রবেশের ছাড়পত্র পেল। বিশেষ করে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক, সামুদ্রিক খাদ্য, খেলনা, ক্রীড়া সামগ্রী, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য এবং অটো পার্টস শিল্পের জন্য এটি একটি বিশাল আশীর্বাদ।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মতে, এই চুক্তি ভারতের কৃষক, শ্রমিক, এমএসএমই (MSME) সেক্টর, স্টার্টআপ এবং উদ্ভাবকদের জন্য এক বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য পূরণে এই অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে কাজ করবে।
সস্তা হবে ব্রিটিশ ব্র্যান্ডের পণ্য
ভারতীয় ক্রেতাদের জন্য সুখবর, এই চুক্তির ফলে ধাপে ধাপে ব্রিটিশ পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক কমানো হবে। সবচেয়ে বড় সুসংবাদ স্কচ হুইস্কি ও লাক্সারি গাড়ির ক্ষেত্রে। বর্তমানে স্কচ হুইস্কির ওপর ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক নেওয়া হয়, যা প্রথমে ৭৫ শতাংশে নামবে এবং আগামী ১০ বছরে তা কমে ৪০ শতাংশে এসে ঠেকবে। একইভাবে, ব্রিটিশ গাড়ির আমদানি শুল্ক ১১০ শতাংশ থেকে ধাপে ধাপে কমে নির্দিষ্ট কোটার আওতায় ১০ শতাংশে নেমে আসবে। বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রেও মিলবে বড় ছাড়। এছাড়া চকোলেট, বিস্কুট, কসমেটিক্স এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসবে।
দেশীয় কৃষকদের সুরক্ষা নিশ্চিত
বাণিজ্যিক স্বার্থের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ কৃষিখাত ও দুগ্ধশিল্পকে সুরক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে। দুধ, দুগ্ধজাত পণ্য, চিনি, চাল, আপেল, চিজ এবং মাংসের মতো স্পর্শকাতর কৃষিজ পণ্যগুলিকে এই চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে বিদেশ থেকে সস্তা পণ্যের আমদানিতে দেশীয় কৃষকদের ক্ষতির কোনো আশঙ্কা নেই।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির ফলে ২০৪০ সালের মধ্যে ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে মোট বাণিজ্য প্রায় ৩৯ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি এবং রফতানি বাণিজ্যে এক নতুন জোয়ার আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।