রথযাত্রার দিন নিয়ে তুঙ্গে বিরোধ! ইসকনের দাবি খারিজ করে তোপ জগন্নাথ মন্দির প্রশাসনের

পুরীর জগন্নাথ মন্দির প্রশাসন (SJTA) এবং ইসকনের (ISKCON) মধ্যে রথযাত্রার আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিবাদ এক নতুন মোড় নিল। বছরের নির্দিষ্ট দিন বাদ দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে রথযাত্রা উদযাপন করা নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানে সংঘাত এখন চরম সীমায়। ইসকনের দাবি যে শাস্ত্র মেনে যে কোনো দিনেই রথযাত্রা করা সম্ভব, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে পুরীর মন্দির প্রশাসন।

মন্দির প্রশাসনের দাবি, ভারতের বাইরে অসময়ে রথযাত্রা বা জগন্নাথ-সংক্রান্ত উৎসব পালন করা সম্পূর্ণ শাস্ত্রবিরোধী। গত ১২ জুলাই ইসকনের নয়াদিল্লির ন্যাশনাল কমিউনিকেশন অফিসের পক্ষ থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেই বিজ্ঞপ্তিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ এবং ‘জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছে এসজেটিএ। মন্দির প্রশাসনের কঠোর মন্তব্য, রথযাত্রা উদযাপন শাস্ত্রসম্মত—এই দাবি সর্বৈব মিথ্যা।

এই দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গত ২০ মার্চ, ২০২৫-এ ভুবনেশ্বরে মন্দির প্রশাসন ও ইসকনের পণ্ডিতদের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকে ইসকনের প্রতিনিধিরা শাস্ত্রীয় নানা যুক্তি দিয়ে সারা বছর রথযাত্রা আয়োজনের যৌক্তিকতা প্রমাণের চেষ্টা করেন। কিন্তু পুরীর মন্দিরের পণ্ডিতরা প্রামাণিক শাস্ত্র ও পুরাণের শ্লোক উদ্ধৃত করে ইসকনের সব দাবি খণ্ডন করেন।

বিতর্ক কেবল দিনক্ষণ নিয়ে নয়, মন্দির কর্তৃপক্ষ ইসকনের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। এসজেটিএ-র মতে, ইসকন একটি পরিকল্পিত ভ্রান্ত ধারণা ছড়িয়েছে যে পুরীর রাজা গজপতি মহারাজা দিব্যসিংহ দেব এই ‘অসময়ের রথযাত্রা’য় অনুমোদন দিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে, মহারাজা জার্মানির বার্লিনে ইসকনের একটি অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন, কিন্তু সেই সফরকে পুঁজি করে ইসকন এই অনুষ্ঠানকে রাজার অনুমোদন হিসেবে প্রচার করেছে বলে অভিযোগ।

এই বিতর্ক নিয়ে পিটিআই (PTI) ইসকনের জাতীয় মুখপাত্র যুধিষ্ঠির গোবিন্দ দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এসজেটিএ-র বিবৃতি না দেখে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। তিনি জানান, বিবৃতিটি না পড়া পর্যন্ত এই স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। আপাতত এই সংঘাতের জেরে ভক্তমহলে ব্যাপক ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। মন্দির প্রশাসনের কঠোর অবস্থানে দাঁড়িয়ে ইসকন আগামী দিনে কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।